রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এবং এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের ভোগান্তি কমাতে দেশজুড়ে অ্যাম্বুলেন্স পুল গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার। আগামী অর্থবছরের মধ্যে এ উদ্যোগের জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

দেশজুড়ে সমন্বিত অ্যাম্বুলেন্স সেবার পরিকল্পনা

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোগী পরিবহনে বিদ্যমান সমস্যা কমানো এবং জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর সুযোগ বাড়ানোই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। তবে অ্যাম্বুলেন্স পুল কীভাবে পরিচালিত হবে, কোন প্রতিষ্ঠান এর দায়িত্বে থাকবে এবং সেবার জন্য কী ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে গত ৮ অক্টোবর স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত ঢাকাসহ আশপাশের জেলাগুলোতে প্রাথমিকভাবে হৃদরোগীদের জন্য বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক চালুর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরে দেশব্যাপী অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়ে তোলার কথা বলেছিলেন তিনি।

উপজেলা পর্যায়ে বাড়বে হাসপাতালের সক্ষমতা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিশেষায়িত সেবা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রস্তাবিত ১৫১ শয্যার হাসপাতালগুলোতে ১০টি ডায়ালাইসিস শয্যা, প্রসূতিদের জন্য ২০ শয্যার ওয়ার্ড এবং শিশুদের জন্য ২০টি শয্যা রাখার পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। এ ছাড়া নারী ও পুরুষের জন্য ফিজিওথেরাপি সেবা এবং মায়েদের বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য নির্ধারিত কেন্দ্র স্থাপনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

জরুরি রোগী পরিবহনে কী বদল আসতে পারে

দেশব্যাপী অ্যাম্বুলেন্স পুল কার্যকর হলে জরুরি রোগী পরিবহনে সমন্বয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায় থেকে জেলা হাসপাতাল কিংবা উন্নত চিকিৎসার জন্য বড় হাসপাতালে রোগী স্থানান্তরের ক্ষেত্রে পরিকল্পিত অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা সহায়ক হতে পারে।

তবে উদ্যোগটির বাস্তব সুফল নির্ভর করবে পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স, প্রশিক্ষিত চালক, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থার ওপর। রোগী পরিবহনের সময় কমাতে হাসপাতালগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার কথা রয়েছে। তবে দেশব্যাপী সেবা চালুর নির্দিষ্ট সময়সূচি, মোট অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা এবং পরিচালনব্যবস্থার বিস্তারিত এখনো জানানো হয়নি। ফলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে রোগীদের পরিবহনসংক্রান্ত ভোগান্তি কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।