দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃ'ত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৭১ জন রোগী। চলতি বছরে একদিনে মৃ'ত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি উভয় ক্ষেত্রেই এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন মৃ'ত্যু ও রোগী ভর্তির পর চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃ'তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩০। আর ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৪৭৫ জনে।
একদিনে ১ হাজার ৫৭১ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যাটি আগের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ওই সময় পর্যন্ত চলতি বছরে মোট রোগী ছিল ৪২ হাজার ৫৯০ জন এবং মৃ'ত্যু হয়েছিল ১১৭ জনের।
সর্বশেষ ৯ মৃ'ত্যুর মধ্যে তিনজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে মারা গেছেন। খুলনা বিভাগ ও ঢাকা বিভাগে দুজন করে এবং বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মৃ'ত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
নতুন রোগীদের বড় একটি অংশ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সরকারি হিসাবে বর্তমানে ৩ হাজার ২১৮ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও চিকিৎসা কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেছেন, বৃষ্টিপাত ও এডিস মশার প্রজননের অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরেও সংক্রমণের চাপ থাকতে পারে। তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সেপ্টেম্বরেই হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়াতে পারে।
ডেঙ্গুর বিস্তার এখন শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নেই। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৬৪ জেলাতেই ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে এবং বিভিন্ন জেলার হাসপাতালেও রোগীর চাপ বাড়ছে। চিকিৎসকেরা বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পর পেটব্যথা, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো সতর্কসংকেত উপেক্ষা না করার পরামর্শ দিয়েছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু মশা নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দিতে হবে।
চলতি বছরের সর্বোচ্চ দৈনিক মৃ'ত্যু ও রোগী ভর্তির এই পরিসংখ্যান এমন সময়ে এলো, যখন সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই সংক্রমণ দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে ডেঙ্গু পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের।