দেশে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা আবারও বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাবে, ৫ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬০ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এতে চলতি বছর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২৬ এবং নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু ১০২ জনে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এখন ১ হাজার ১২৮।

একই সময়ে ১ হাজার ২৯৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ১৭৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৩৬। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৪২ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গযুক্ত রোগীর মোট সংখ্যা ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭২২। এর মধ্যে পরীক্ষায় ২১ হাজার ৮০৮ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। আগের ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হওয়া ৬০টি সংক্রমণ এই মোট সংখ্যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

তবে এই সংখ্যাকে দেশে আক্রান্তের পূর্ণ চিত্র হিসেবে দেখছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কারণ হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা সব রোগীর পরীক্ষা করা হয় না। হাসপাতালের বাইরে থাকা রোগীরাও অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষার আওতায় আসেন না। ফলে প্রকৃত নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে বেশি হতে পারে।

মৃত্যুর হিসাবেও একইভাবে নিশ্চিত ও সন্দেহজনক ঘটনা আলাদা করে দেখা হচ্ছে। সর্বশেষ তিনটি মৃত্যুকেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হামের উপসর্গজনিত সন্দেহজনক মৃত্যু হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে; ওই ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামজনিত নতুন কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর একদিন আগেও পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু এবং ৮২টি নতুন নিশ্চিত সংক্রমণের তথ্য দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তখন সন্দেহজনক ও নিশ্চিত মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১২৫ এবং নিশ্চিত সংক্রমণ ছিল ২১ হাজার ৭৪৮।

৫ অক্টোবরের হিসাবেও ঢাকা বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর হিসাবে ঢাকা বিভাগে ৪৬৬ জন, সিলেটে ১৭৯, রাজশাহীতে ৯৩, চট্টগ্রামে ৮৮, ময়মনসিংহে ৮০, বরিশালে ৬০, খুলনায় ৪৪ এবং রংপুরে ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কয়েক মাস ধরে চলা এই প্রাদুর্ভাবের মধ্যে হাসপাতালে রোগীর চাপও অব্যাহত রয়েছে।

ফলে হামের ক্ষেত্রে শুধু নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা নয়, উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগী এবং পরীক্ষার বাইরে থাকা সম্ভাব্য রোগীর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সর্বশেষ তথ্য বলছে, সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি; বরং প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।