দেশে ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০১ জনে এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬৭ হাজার ৩৬৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২৩ সেপ্টেম্বরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিষয়ক বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার হিসাব এটি। এ সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৫৫৭ জন।
ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন রোগী
নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৭৩ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৭৯ জন রয়েছেন। ঢাকার দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪০৫ জন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১৭ জন, খুলনায় ২৮০ জন, বরিশালে ১৭৮ জন, রাজশাহীতে ১৫৬ জন, ময়মনসিংহে ১১৩ জন, রংপুরে ৫৯ জন এবং সিলেটে আটজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে দুজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চট্টগ্রাম বিভাগেও দুজন এবং বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।
সেপ্টেম্বরে মৃত্যুর সংখ্যা সর্বোচ্চ
চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরেই মারা গেছেন ১০৪ জন, যা চলতি বছরের কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫ হাজার ৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বছর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬২ হাজার ১১৭ জন।
আগের বছরগুলোর চিত্র
বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় আকার ধারণ করেছে। ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন।
গত বছর ডেঙ্গুতে ৪১৩ জনের মৃত্যু এবং ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চলতি বছরের মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা এখনো গত বছরের পর্যায়ে না পৌঁছালেও সেপ্টেম্বরের ধারাবাহিক মৃত্যুর কারণে পরিস্থিতি নজরে রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু ড্যাশবোর্ডে ২৩ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ হিসাবে একদিনে ১ হাজার ৮৬৮ জন নতুন রোগী ভর্তি এবং ছয়জনের মৃত্যুর তথ্যও দেখানো হয়েছে।
