দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১ হাজার ৩০০ জন ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে একজনের মৃ/ত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃ/ত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৫ জনে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪১৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১৮ জন, খুলনা বিভাগে ২৭৪ জন, বরিশাল বিভাগে ১৪১ জন, রংপুর বিভাগে ৮০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৯ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪ জন রয়েছেন।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে যে একজনের মৃ/ত্যু হয়েছে, তিনি খুলনা বিভাগের বাসিন্দা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে একই সময়ে চিকিৎসা শেষে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ১৭২ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ৮৯ হাজার ৩৮০ জন।
বছরের শুরু থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৪৫১ জনে। তবে এই হিসাব হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের ভিত্তিতে তৈরি। ফলে হাসপাতালে ভর্তি না হওয়া আক্রান্ত ব্যক্তিরা এই সংখ্যার অন্তর্ভুক্ত নন।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃ/ত্যু হয়েছে সেপ্টেম্বরে। ওই মাসে ১৪৮ জনের প্রাণহা/নি ঘটে। বছরের প্রথম পাঁচ মাসে মোট পাঁচজন, জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জনের মৃ/ত্যু হয়েছিল। অক্টোবরের প্রথম নয় দিনেই নতুন করে ৫০ জনের মৃ/ত্যু হয়েছে।
ডেঙ্গুর এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা পর্যায়েও চিকিৎসাসেবা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
শুক্রবার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত এক মাসে সারা দেশে দুই হাজার চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শয্যা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা এবং ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ছাদ ও অন্যান্য স্থানে পানি জমতে না দেওয়া জরুরি। জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ডেঙ্গুতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে। সংক্রমণ ও মৃ/ত্যু কমাতে চিকিৎসার প্রস্তুতির পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।









