উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রংপুর, দিনাজপুর ও গাইবান্ধায় অসুস্থ গবাদিপশুর মাংসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার পর বেশ কয়েকজন মানুষের চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক মাসে এসব ঘটনায় অন্তত ৫৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অ্যানথ্রাক্স সাধারণত আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে।

অ্যানথ্রাক্স একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা সাধারণত গবাদিপশু ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে দেখা যায়। আক্রান্ত প্রাণীর মাংস কাটা, খাওয়া বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে মানুষের সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় পর্যায়ে অসুস্থ বা মৃত গবাদিপশুর মাংস ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্কতা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মানুষের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণে সাধারণত ত্বকে ক্ষত, ফোলা বা কালচে দাগসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা নিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

গবাদিপশুর মধ্যে রোগ শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে প্রাণিসম্পদ বিভাগের নজরদারিও গুরুত্বপূর্ণ। আক্রান্ত প্রাণী শনাক্ত করা এবং নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো যায়।

উত্তরাঞ্চলের এসব ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে জনসচেতনতা, নিরাপদ মাংস ব্যবস্থাপনা এবং আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আক্রান্ত এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর নজরদারি বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।