বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশের অসংখ্য শিক্ষার্থী। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আইইএলটিএস (IELTS) পরীক্ষার ফল গ্রহণ করা হয়। তবে ভালো প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও কিছু সাধারণ ভুলের কারণে অনেক শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ব্যান্ড স্কোর অর্জনে সমস্যায় পড়েন।

আইইএলটিএস পরীক্ষায় লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং ও স্পিকিং, এই চারটি দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। তাই শুধু ইংরেজি ব্যাকরণ জানা বা কয়েকটি বই শেষ করলেই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন পরিকল্পিত প্রস্তুতি ও পরীক্ষার ধরন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা।

প্রথম ভুল: প্রয়োজনীয় ব্যান্ড স্কোর না জেনে প্রস্তুতি শুরু করা।

সব বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কোর্সে একই আইইএলটিএস স্কোর প্রয়োজন হয় না। কোনো প্রতিষ্ঠানে সামগ্রিক ব্যান্ড স্কোরের পাশাপাশি নির্দিষ্ট মডিউলে ন্যূনতম স্কোরের শর্ত থাকতে পারে। তাই প্রস্তুতি শুরুর আগে কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সের ভাষাগত যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে নিজের জন্য IELTS Academic নাকি অন্য ধরনের পরীক্ষা প্রয়োজন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

দ্বিতীয় ভুল: শুধু মুখস্থ উত্তর ও টেমপ্লেটের ওপর নির্ভর করা।

অনেক শিক্ষার্থী রাইটিং ও স্পিকিং পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট কিছু উত্তর মুখস্থ করেন। কিন্তু পরীক্ষায় প্রশ্নের সঙ্গে মিল রেখে নিজের বক্তব্য স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ। আইইএলটিএসের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শব্দভান্ডার, ব্যাকরণের যথাযথ ব্যবহার, বক্তব্যের ধারাবাহিকতা এবং প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সক্ষমতা বিবেচনা করা হয়।

তৃতীয় ভুল: সময় ব্যবস্থাপনার অনুশীলন না করা।

আইইএলটিএসের রিডিং ও রাইটিং পরীক্ষায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অনেক শিক্ষার্থী অনুশীলনের সময় ভালো করলেও মূল পরীক্ষায় সময়ের অভাবে উত্তর অসম্পূর্ণ রেখে আসেন। এ সমস্যা এড়াতে শুরু থেকেই নির্ধারিত সময় ধরে অনুশীলন করা উচিত।

চতুর্থ ভুল: নিয়মিত মক টেস্ট না দেওয়া।

প্রস্তুতির অগ্রগতি বোঝার অন্যতম উপায় হলো মক টেস্ট। নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনী পরীক্ষা না দিলে সময় ব্যবস্থাপনা, মনোযোগ ধরে রাখা এবং বিভিন্ন মডিউলের দুর্বলতা চিহ্নিত করা কঠিন হতে পারে। আইইএলটিএসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও নমুনা প্রশ্ন, অনুশীলনী পরীক্ষা ও প্রস্তুতিসংক্রান্ত বিভিন্ন উপকরণ রয়েছে।

পঞ্চম ভুল: দুর্বল মডিউল এড়িয়ে শুধু পছন্দের বিষয়ে পড়াশোনা করা।

অনেক শিক্ষার্থী রিডিং ও লিসেনিংয়ে বেশি সময় দিলেও রাইটিং কিংবা স্পিকিং অনুশীলনে তুলনামূলক কম গুরুত্ব দেন। অথচ চারটি মডিউলেই ভালো ফল করার চেষ্টা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ন্যূনতম স্কোর পূরণের জন্য প্রতিটি মডিউলের প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

স্পিকিং পরীক্ষায় সাবলীলভাবে কথা বলা, যথাযথ শব্দ নির্বাচন, ব্যাকরণ এবং উচ্চারণ মূল্যায়ন করা হয়। অন্যদিকে রাইটিং পরীক্ষায় প্রশ্নের চাহিদা পূরণ, যুক্তিসংগতভাবে বক্তব্য সাজানো, শব্দভান্ডার ও ব্যাকরণের ব্যবহার বিবেচিত হয়।

প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নিজের বর্তমান দক্ষতা যাচাই করে বাস্তবসম্মত পড়াশোনার রুটিন তৈরি করা কার্যকর হতে পারে। প্রতিদিন চারটি মডিউলের জন্য সময় রাখা, ইংরেজি সংবাদ ও আলোচনা শোনা, নিয়মিত লেখা এবং অন্যদের সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।

একই সঙ্গে পরীক্ষার আগে অফিশিয়াল নমুনা প্রশ্ন ও মূল্যায়নের নিয়মগুলো বুঝে নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের কাছ থেকে নিজের লেখা ও স্পিকিং অনুশীলনের বিষয়ে মতামত নেওয়া যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শভিত্তিক প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া নয়, বরং বাস্তব জীবনে ইংরেজি ভাষা ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ানো।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনায় আইইএলটিএস একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও এটি একমাত্র শর্ত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি যোগ্যতা, শিক্ষাগত ফলাফল, আর্থিক প্রস্তুতি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ, নিয়মিত অনুশীলন এবং নিজের দুর্বলতা সংশোধনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর করতে পারেন। এতে অপ্রয়োজনীয় সময় ও অর্থ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।