বিদেশের কোনো স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের লাখ লাখ শিক্ষার্থী। তবে আবেদন শুরু করার পর চূড়ান্ত ভর্তি পর্যন্ত পৌঁছানোর পথ অনেকের জন্যই সহজ হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম Via TRM-এর এক গবেষণায় উঠে এসেছে, আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী শেষ ধাপে গিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর আবেদন প্রক্রিয়া ও আচরণ বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, বিদেশে পড়াশোনার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সম্মতি বা Commitment সম্পন্ন করেননি।

গবেষণা অনুযায়ী, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা শিক্ষার্থীদের প্রায় ৪৫ শতাংশ শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি। অর্থাৎ শুরুতে ইতিবাচক মনোভাব থাকলেও অনেক শিক্ষার্থী আবেদন প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে গিয়ে পিছিয়ে পড়েছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার শেষ পর্যায়ে এসে খরচ শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে ওঠে। প্রায় ৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী বিদেশে পড়াশোনার ব্যয়কে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

যেসব শিক্ষার্থী শুরুতেই খরচ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন, তাদের ৮৩ শতাংশ আবেদন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ৪০ শতাংশ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ধরে রাখতে পেরেছেন। অন্যদিকে, আর্থিক বিষয়ে কম উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার হার ছিল ৮৭ শতাংশ এবং চূড়ান্তভাবে যুক্ত হওয়ার হার ছিল ৬০ শতাংশ।

তবে গবেষণাটি বলছে, অর্থই একমাত্র বাধা নয়। প্রায় ২ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী জানিয়েছিলেন, খরচ নিয়ে তাদের কোনো বড় উদ্বেগ নেই, তারপরও তারা শেষ পর্যন্ত আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেননি। এতে বোঝা যায়, প্রশাসনিক জটিলতা, প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং তথ্যের ঘাটতিও শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।

গবেষণায় শিক্ষার্থীদের আরও কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • আবাসন সমস্যা: প্রায় ৪৬.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বিদেশে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী থাকার ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

  • পরিকল্পনা ও সময় ব্যবস্থাপনা: ৪৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পুরো আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেছেন।

  • একাডেমিক ক্রেডিট হস্তান্তর: ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী আগের অর্জিত ক্রেডিট নতুন প্রতিষ্ঠানে গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

  • ভর্তি হওয়ার সুযোগ: ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ঝরে পড়েন আবেদন শুরু করা এবং তা চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে। শুরু করা প্রতি পাঁচটি আবেদনের মধ্যে প্রায় দুটি আবেদন শেষ পর্যন্ত জমা দেওয়া হয়নি।

আবেদনের মাধ্যমও শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। বর্তমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সরাসরি এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যমে সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে, থার্ড-পার্টি প্রোভাইডার প্রোগ্রামের মাধ্যমে সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের আবেদন শুরুর সময়ের মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে। প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী নিবন্ধনের দিনেই প্রথম পদক্ষেপ নেন, তবে ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী আবেদন শুরু করতে ছয় মাস বা তার বেশি সময় নিয়ে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে শুধু আর্থিক সহায়তা বা বৃত্তিই যথেষ্ট নয়। আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা, তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব ব্যবস্থা তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।