সিলেটের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে নতুন সুযোগ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে MIE Pathways (NCUK) Sylhet Study Center। প্রতিষ্ঠানটি সিলেটে প্রথমবারের মতো চালু করেছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত International Foundation Year (IFY), Level 3 প্রোগ্রাম। অক্টোবর–নভেম্বর ইন্টেককে সামনে রেখে বর্তমানে ভর্তি কার্যক্রম চলছে। যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে ৫০ শতাংশ স্কলারশিপের সুযোগ।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সিলেট ও আশপাশের অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা নিজ শহরে থেকেই আন্তর্জাতিক কারিকুলামে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারবেন। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনার পরিকল্পনা করছেন এমন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ভিত্তি তৈরি এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়াই এই কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।
International Foundation Year হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে প্রবেশের জন্য একটি প্রস্তুতিমূলক প্রোগ্রাম। NCUK-এর একাডেমিক কাঠামোর আওতায় পরিচালিত এই প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দের বিষয় ও ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
প্রোগ্রামটির বিষয়ভিত্তিক ধারার মধ্যে রয়েছে Business, Law & Humanities, Science & Engineering এবং Medical। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও একাডেমিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এই প্রোগ্রাম সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীরা প্রযোজ্য ভর্তি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে NCUK-এর বিশ্ববিদ্যালয় পার্টনারদের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার সম্ভাবনা অনুসন্ধান করতে পারবেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা ও প্রবেশের শর্তের ওপর নির্ভর করবে।
MIE Pathways (NCUK) সিলেটের রিজিওনাল ম্যানেজার রাহিত পারভেজ জয় বলেন, সিলেটের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সহজলভ্য ও বাস্তবসম্মত করে তোলাই তাঁদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তিনি জানান, অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় একাডেমিক প্রস্তুতি এবং আর্থিক সুযোগ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমস্যার মুখে পড়েন। শিক্ষার্থীদের এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে চান তাঁরা।
রাহিত পারভেজ জয় আরও বলেন, অক্টোবর–নভেম্বর ইন্টেককে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ শতাংশ স্কলারশিপের সুযোগ রাখা হয়েছে। আগ্রহী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সরাসরি স্টাডি সেন্টারে এসে কোর্স, ভর্তির যোগ্যতা, স্কলারশিপ, খরচ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।
MIE Pathways-এর কান্ট্রি ম্যানেজার এইচ এম শাহজালাল বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার জন্য প্রস্তুত করা এবং বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার পথ তৈরি করা তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।
তাঁর মতে, সিলেটে এই স্টাডি সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হওয়া দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারবেন এবং পরিকল্পিতভাবে নিজেদের উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য নির্ধারণের সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতায় সিলেটে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে চান তাঁরা।
MIE Pathways-এর চিফ কমার্শিয়াল অফিসার (CCO) জহিরুল ইসলাম এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) গোলাম মর্তুজার উদ্যোগ ও নেতৃত্বে সিলেটে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, স্থানীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের একাডেমিক প্রস্তুতির সুযোগ বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের কাছে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দেওয়া।
এদিকে অক্টোবর–নভেম্বর ইন্টেকের জন্য যোগ্য শিক্ষার্থীদের ৫০ শতাংশ স্কলারশিপের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। SSC, HSC এবং প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে ভর্তি ও স্কলারশিপের শর্ত ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিজের একাডেমিক যোগ্যতা এবং স্কলারশিপের বিস্তারিত শর্ত যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রোগ্রামের মোট খরচ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ভর্তির যোগ্যতা এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সরাসরি MIE Pathways (NCUK) Sylhet Study Center-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
সিলেট নগরীর সুবিদবাজারে Zenith Western Garden-এর প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত স্টাডি সেন্টারটি। ভর্তি ও অন্যান্য তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে +880 1755-614758 নম্বরে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সিলেটের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।









