যুক্তরাজ্যে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করার সুযোগ নিয়ে এসেছে বিশ্বখ্যাত শেভেনিং স্কলারশিপ। ২০২৭–২০২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য বাংলাদেশসহ যোগ্য দেশের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে যুক্তরাজ্য সরকারের এই আন্তর্জাতিক বৃত্তি কর্মসূচি।
উচ্চ সম্ভাবনাময় ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত এই বৃত্তির আওতায় যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছরের মাস্টার্স প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
শেভেনিং স্কলারশিপ পরিচালিত হয় যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (FCDO) এবং এর অংশীদার সংস্থাগুলোর অর্থায়নে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি, মাসিক জীবনযাত্রার খরচ, যাতায়াত ব্যয়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হয়।
আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। শেভেনিংয়ের জন্য আবেদন করতে হলে বাংলাদেশসহ শেভেনিং-যোগ্য দেশের নাগরিক হতে হবে।
এ ছাড়া আবেদনকারীর স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে এবং যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ভর্তির যোগ্যতা থাকতে হবে। স্নাতক শেষ করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্জিত যোগ্যতা আবেদনকারীর থাকতে হবে।
শেভেনিং স্কলারশিপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো কাজের অভিজ্ঞতা। আবেদনকারীর স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ন্যূনতম দুই বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, যা প্রায় ২ হাজার ৮০০ ঘণ্টার সমতুল্য।
এই অভিজ্ঞতার মধ্যে পূর্ণকালীন চাকরি, খণ্ডকালীন কাজ, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম কিংবা ইন্টার্নশিপও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
আবেদনকারীদের যুক্তরাজ্যের তিনটি ভিন্ন ও অনুমোদিত মাস্টার্স কোর্সে আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অন্তত একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শর্তহীন ভর্তির প্রস্তাব বা Unconditional Offer Letter সংগ্রহ করতে হবে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে আবেদন করা যাবে না। ব্রিটিশ বা দ্বৈত ব্রিটিশ নাগরিকরা এই বৃত্তির জন্য সাধারণত যোগ্য নন। একই সঙ্গে যারা আগে যুক্তরাজ্য সরকারের অন্য কোনো স্কলারশিপের মাধ্যমে পড়াশোনা করেছেন, তারাও আবেদন করতে পারবেন না।
আবেদনের সময় যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ব্যক্তি এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর, ব্রিটিশ কাউন্সিল বা সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি বা তাদের ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের জন্যও নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
শেভেনিং শুধু একটি শিক্ষাবৃত্তি নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব, গবেষণা ও পেশাগত যোগাযোগ তৈরির একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান।
জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এই বৃত্তি বিশেষ সুযোগ তৈরি করে।
আগ্রহী শিক্ষার্থীরা শেভেনিংয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন ও বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।




