যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আগ্রহে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দেশটির হোম অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে স্টাডি ভিসার আবেদন কমেছে ১৬ শতাংশ।

হোম অফিসের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত স্পন্সরড স্টুডেন্ট ভিসার মূল আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৬০ হাজার ৭০০ জন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ১৬ শতাংশ কম।

সাধারণত সেপ্টেম্বরের নতুন শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে আগস্ট মাসে যুক্তরাজ্যে স্টাডি ভিসার আবেদনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে। এরপর জানুয়ারি ইনটেককে কেন্দ্র করে ডিসেম্বরেও আবেদনের সংখ্যা বাড়ে।

তবে এবারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবেদন মৌসুমেই পতনের চিত্র দেখা গেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আসা ডিপেন্ডেন্টদের ভিসা আবেদনও কমেছে ২২ শতাংশ।

যুক্তরাজ্য সরকারের পরিবর্তিত অভিবাসন নীতির কারণে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য পরিবারের সদস্য নিয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। তবে গবেষণা ও পিএইচডি পর্যায়ের নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষার্থী এখনো এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংগঠন রাসেল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী লিব্বি হ্যাকেট এই পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বাজারের অস্থিরতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর অভিবাসন নীতির পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন নীতিগত আলোচনার প্রভাব পড়ছে শিক্ষা খাতে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বলছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের ফি অনেক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত থাকায় আবেদন কমে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যুক্তরাজ্যের ভিসা নীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং উচ্চশিক্ষার খরচ বিবেচনা করে অনেক শিক্ষার্থী এখন বিকল্প দেশ বেছে নিচ্ছেন।

অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ তৈরি করছে। ফলে যুক্তরাজ্যের শিক্ষা খাতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষা খাতের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্য এখনো অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য হলেও সাম্প্রতিক ভিসা আবেদন কমে যাওয়ার প্রবণতা দেশটির বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা নীতিনির্ধারকদের জন্য নতুন ভাবনার বিষয় হয়ে উঠেছে।