পাকিস্তানে চিকিৎসাশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। পাকিস্তান সরকারের পাকিস্তান টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামের (পিটিএপি) আওতায় ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশটির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে মোট ২৫টি আসন বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে এমবিবিএসে ২০টি এবং বিডিএসে ৫টি আসন রয়েছে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আগামী ১৬ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে আবেদনপত্র ঢাকার পাকিস্তান হাইকমিশনে পাঠাতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ১ নভেম্বর এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এই আসনগুলো দেওয়া হয়েছে। আবেদনপত্র ও বিস্তারিত তথ্য পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগের (ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন) ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

আবেদনের যোগ্যতা

পাকিস্তান হাইকমিশনের পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে বিদেশি নাগরিক হতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এইচএসসি, এফএসসি বা এ-লেভেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে থাকতে হবে এবং ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ নম্বর অর্জন করতে হবে।

এ ছাড়া আবেদনকারীকে নির্ধারিত ভর্তি পরীক্ষাগুলোর যেকোনো একটিতে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। এসএটি-২ পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৫৫০ নম্বর, ফরেন এমসিএটি বা ইউক্যাট পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় বিষয়ে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর অথবা এমডিসিএটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার সমমান সনদও প্রয়োজন হবে। পাকিস্তানের ইন্টার বোর্ড কমিটি অব চেয়ারম্যানস (আইবিসিসি), ইসলামাবাদ থেকে সমমান সনদ সংগ্রহ করে আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। সমমান সনদ ছাড়া আবেদন বিবেচনা করা হবে না বলে নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।

যেসব কাগজপত্র লাগবে

আবেদনকারীকে নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করে চার কপি জমা দিতে হবে। এর সঙ্গে এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার সনদ, নম্বরপত্র, সাম্প্রতিক পাসপোর্ট আকারের চার কপি ছবি, পাসপোর্টের অনুলিপি এবং আইবিসিসি থেকে নেওয়া সমমান সনদ সংযুক্ত করতে হবে।

আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়িত করে নির্ধারিত নিয়মে জমা দিতে হবে। আবেদন ফরম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। সম্পূর্ণ আবেদনপত্র ১৬ নভেম্বরের মধ্যে পাকিস্তান হাইকমিশন, বাড়ি নম্বর এনই (সি)-২, রোড ৭১, গুলশান-২, ঢাকায় পাঠাতে হবে।

ভর্তির ক্ষেত্রে যেসব বিষয় জানা জরুরি

এই কর্মসূচিতে আবেদন করলেই ভর্তি নিশ্চিত হবে না। সংশ্লিষ্ট পাকিস্তানি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনকারীদের যোগ্যতা ও চূড়ান্ত নির্বাচন নির্ধারণ করবে। আসনসংখ্যা, শিক্ষার্থীর পছন্দ এবং প্রতিষ্ঠানের শর্ত বিবেচনায় ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে আবেদন করলে তা গ্রহণ করা হবে না বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।

এ কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যের বৃত্তি হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ফি দিতে হবে। পাকিস্তানে যাতায়াত, থাকা, খাওয়া ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচও শিক্ষার্থীদের নিজেদের বহন করতে হবে। টিউশন ফি বা অন্যান্য ফিতে কোনো ছাড় কিংবা অব্যাহতি দেওয়া হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতিমালার ওপর নির্ভর করবে।

কোথায় পাওয়া যাবে বিস্তারিত তথ্য

আবেদন ফরম, যোগ্যতার শর্ত ও অন্যান্য নির্দেশনা পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিষয়ক বিভাগের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি থেকেও তথ্য জানা যাবে।

আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব শর্ত ভালোভাবে পড়ে নেওয়া, প্রয়োজনীয় সমমান সনদ সংগ্রহ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনপত্র পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।