সতীর্থরা ফিরেছেন একে একে, একাই বাংলাদেশকে টানলেন হৃদয়

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়েছেন তাওহিদ হৃদয়। সতীর্থদের একের পর এক বিদায়ের মধ্যেও উইকেট আগলে রেখে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশের এই ব্যাটার। তাঁর দুর্দান্ত ইনিংসে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে এই কীর্তি গড়েন হৃদয়। নিজের তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই দ্বিশতকের দেখা পেলেন তিনি।

১০৯ বলে ফিফটি, এরপর সেঞ্চুরি

দিনের খেলা শুরু করেছিলেন ২৯ রানে অপরাজিত থেকে। কিন্তু দিনের শুরুতেই সাজঘরে ফেরেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। ৩৪ রান করে জোমেল ওয়ারিকানের বলে ক্যাচ দেন তিনি।

এরপর একই বোলারের শিকার হন লিটন দাস। তাঁর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৮ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ ১৬ এবং হাসান মাহমুদ ১ রান করে ফিরলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

তবে এক প্রান্ত আগলে রাখেন হৃদয়। ১০৯ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফিফটি তুলে নেওয়ার পর ১৭১ বলে পৌঁছে যান প্রথম সেঞ্চুরিতে।

তাইজুলের সঙ্গে গড়েন গুরুত্বপূর্ণ জুটি

হৃদয়ের লড়াইয়ে পরে যোগ দেন তাইজুল ইসলাম। দুজন মিলে ১১৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। তাইজুল ২২ রান করে ওয়ারিকানের বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হলে ভাঙে এই জুটি।

ততক্ষণে বাংলাদেশের ইনিংসে বড় অবদান রেখে ফেলেছেন হৃদয়। শেষদিকে তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে নিজের ইনিংস আরও বড় করেন তিনি।

৩০৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি

জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন হৃদয়। এর আগে চায়ের বিরতিতে ১৯০ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।

এই ইনিংসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ডও গড়েন হৃদয়। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড ছিল মুশফিকুর রহিমের ২১৯ রান।

হৃদয়ের এই দ্বিশতক বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে বিশেষ অর্জন হয়ে থাকবে। সতীর্থদের ব্যর্থতার মধ্যেও নিজের ব্যাটে দলের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য দেখিয়েছেন তিনি।

তৃতীয় দিনের এই ইনিংসে হৃদয় প্রমাণ করেছেন, কঠিন পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে বড় ইনিংস খেলা সম্ভব।