সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। একের পর এক উইকেট হারানোর মধ্যে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক তুলে নেন তাওহিদ হৃদয়। শুধু ফিফটিতেই থামেননি তিনি, দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তুলে নিয়েছেন নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিও।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে উইকেটে ছিলেন আগের দিনের অপরাজিত ব্যাটার হৃদয় ও মুশফিকুর রহিম।

মুশফিকের পর ফিরলেন লিটন

চতুর্থ উইকেটে হৃদয় ও মুশফিকের জুটি কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছিল বাংলাদেশের ইনিংসে। দুজন মিলে ৭৮ রান যোগ করেন। তবে বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানের বলে ক্যাচ দিয়ে ৩৪ রানেই ফিরে যান মুশফিক।

এরপর নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক পূর্ণ করেন হৃদয়। ১০৯ বলে চারটি বাউন্ডারির সাহায্যে ফিফটির দেখা পান তিনি।

কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ওয়ারিকানের বলেই কাভারে ক্যাচ দিয়ে ৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস। তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৪১ রান।

মিরাজ-হাসানও ফিরলেন

লিটনের বিদায়ের পর দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে ৩০ বলে ১৬ রান করে রস্টন চেজের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

এরপর হাসান মাহমুদও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। রিভিউয়ের পর ক্যাচ আউট হন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১ রান।

একদিকে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ, অন্যদিকে অবিচল থাকেন হৃদয়। একপর্যায়ে তাইজুল ইসলামকে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন তিনি।

প্রথম সেঞ্চুরিতে হৃদয়ের নতুন ইতিহাস

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের জবাবে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে মধ্যাহ্নবিরতি পর্যন্ত ৭ উইকেটে ২০৫ রান সংগ্রহ করে। তখনও ১৫১ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকরা।

হৃদয় অপরাজিত ছিলেন ১৭১ বলে ১০০ রান করে। তাঁর ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও একটি ছক্কা। ১০৯ বলে প্রথম টেস্ট ফিফটি পাওয়ার পর সেটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেন এই ডানহাতি ব্যাটার।

তাইজুল ইসলাম ১ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জোমেল ওয়ারিকান ৬০ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ওপেনার শাদমান ইসলাম চোটের কারণে ব্যাট করতে পারেননি। ফলে হৃদয়ের ওপর বাড়তি দায়িত্ব এসে পড়ে।

কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট হাতে তাওহিদ হৃদয়ের এই লড়াই বাংলাদেশের ইনিংসে বড় প্রাপ্তি হয়ে থাকল। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের রান টপকাতে তখনো অনেক পথ বাকি ছিল বাংলাদেশের।