প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিততে পারল না বাংলাদেশ। মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিকদের ৮ উইকেটে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শনিবার, ৩১ অক্টোবর চতুর্থ দিনের খেলায় বাংলাদেশের দেওয়া ১৭০ রানের লক্ষ্য ৩৫.১ ওভারেই পেরিয়ে যায় সফরকারীরা। দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল তারা।

মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭২ রান করে। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস থামে ২৪৫ রানে। ফলে ২৭ রানের লিড পেয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। একপর্যায়ে ৭৯ রানে ৬ উইকেট হারানো দলটি শেষ পর্যন্ত ১৪২ রানে অলআউট হয়। এতে জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭০ রান।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে লড়াই করেন নাঈম হাসান। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৫২ রান, যা টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর প্রথম অর্ধশতক। ৯১ বলের ইনিংসে তিনি দলের স্কোর বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট হারানোয় বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক রস্টন চেজ বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন। তিনি ৩৬ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন। জোমেল ওয়ারিক্যান শিকার করেন ৪ উইকেট। তাঁদের স্পিন আক্রমণের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটাররা দ্বিতীয় ইনিংসে বড় প্রতিরোধ গড়তে পারেননি।

১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে। ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ৪৯ রান করেন। ব্র্যান্ডন কিং অপরাজিত ৮১ রান নিয়ে দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন। তাঁর সঙ্গে অপরাজিত থাকা কাভেম হজ করেন ৩১ রান। শেষ পর্যন্ত ২ উইকেট হারিয়েই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় সফরকারীরা।

বাংলাদেশের হয়ে শোরিফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ একটি করে উইকেট নেন। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের রান তোলার গতি থামাতে পারেননি স্বাগতিক বোলাররা। বিশেষ করে স্পিন সহায়ক উইকেটেও বাংলাদেশের স্পিনাররা প্রথম ইনিংসের মতো কার্যকর হতে পারেননি।

ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য বড় হতাশা ছিল দুই ইনিংসেই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারানো। প্রথম ইনিংসে ২১৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ভালো অবস্থানে থাকা দলটি শেষ সাত উইকেটে মাত্র ৫৯ রান যোগ করে অলআউট হয়েছিল। দ্বিতীয় ইনিংসেও দ্রুত উইকেট হারানোর ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা।

এই হারের ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায়ও পিছিয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, দলটি এক ধাপ নেমে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ৫ নভেম্বর সিলেটে। সিরিজে সমতা ফেরাতে ওই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।