নেপাল প্রিমিয়ার লিগের (এনপিএল) তৃতীয় আসর ঘিরে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, টুর্নামেন্টে খেলতে অনাপত্তিপত্র বা এনওসি দেওয়ার বিনিময়ে ক্রিকেটারপ্রতি ২৫ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩১ লাখ টাকা।

এনপিএলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, কয়েকজন পাকিস্তানি ক্রিকেটার প্রথমে ছাড়পত্র পেলেও পরবর্তী সময়ে তাঁদের অনুমতি স্থগিত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজন ক্রিকেটার নেপালে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে এনওসি জটিলতার কারণে কয়েকজনের নেপালযাত্রা পিছিয়ে গেছে।

তবে পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত কোনো অর্থ দাবি করেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অর্থসংক্রান্ত বিষয়টিই ছাড়পত্র আটকে রাখার একমাত্র কারণ কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।

এবারের আসরে পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান, হুসেইন তালাত, ইফতিখার আহমেদ, হাসান আলী, উসামা মীর, হায়দার আলী ও হুনাইন শাহসহ কয়েকজন ক্রিকেটারের খেলার কথা রয়েছে।

এর মধ্যে কর্নালি ইয়াকসের হয়ে চুক্তিবদ্ধ পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহানকে ঘিরে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিক গৃহেন্দ্র ঘিমিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পিসিবির অনুরোধে ফারহানকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আগামী ৩১ অক্টোবর তাঁর নেপালে ফেরার কথা রয়েছে।

ফলে জানাকপুর বোল্টস ও বিরাটনগর কিংসের বিপক্ষে কর্নালি ইয়াকসের প্রথম দুই ম্যাচে তাঁকে পাওয়া যাবে না বলে জানা গেছে।

কর্নালি ইয়াকসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফারহান ও হুসেইন তালাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে আলোচিত অর্থ পরিশোধের প্রস্তুতিও রয়েছে তাঁদের। আগে থেকেই ক্রিকেটারদের সঙ্গে চুক্তি থাকায় শেষ মুহূর্তে তাঁদের হারাতে চায় না ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

নেপাল প্রিমিয়ার লিগের তৃতীয় আসর সোমবার (২৬ অক্টোবর) কীর্তিপুরের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে শুরু হওয়ার কথা। আট দলের এই প্রতিযোগিতা চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত।

এর আগেও বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের এনওসি দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটের কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিল।

এবার নেপাল প্রিমিয়ার লিগের শুরুতেই এনওসি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হওয়ায় পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর দলীয় পরিকল্পনাতেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।