শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৪ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান। সাজঘরে ফিরে যান ওপেনার মাজ সাদাকাত ও বাবর আজম। কিন্তু সেখান থেকে ম্যাচের চিত্র বদলে দেন ফখর জামান ও তরুণ ব্যাটসম্যান সাদ বেগ। পরে আরাফাত মিনহাসের ঝোড়ো ইনিংসে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান।
শনিবার, ৩১ অক্টোবর লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারায় স্বাগতিকেরা। ৯ বল হাতে রেখে ৪৮.৩ ওভারে ৩৩১ রান করে পাকিস্তান। ২০১৭ সালের পর নয়, বরং ২০০৮ সালের পর প্রথমবার বহুজাতিক ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতল দলটি।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩২৫ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৩১ রান করেন কামিন্দু মেন্ডিস। ১২৮ বলের ইনিংসে ১২টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন তিনি। এটি ছিল তাঁর প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। পাভান রত্নায়েকে করেন ৭৭ রান। তৃতীয় উইকেটে এই দুই ব্যাটসম্যানের ১৪৬ রানের জুটি শ্রীলঙ্কাকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়।
শুরুতে আভিষ্কা ফার্নান্দোর সঙ্গে ৮৭ রানের জুটি গড়েন কামিন্দু। ফার্নান্দো করেন ৩৮ রান। এরপর রত্নায়েকেকে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন কামিন্দু। একপর্যায়ে ৪০ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ২৩৮ রান। তখন মনে হচ্ছিল, দলটির স্কোর ৩৫০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। কিন্তু শেষ ১০ ওভারে পাকিস্তানের বোলাররা ঘুরে দাঁড়ান। ৮৭ রান যোগ করতে গিয়ে ৬ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। শেষ পর্যন্ত তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩২৫।
পাকিস্তানের হয়ে সালমান আলী আগা, শাহিন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ ও নাসিম শাহ দুটি করে উইকেট নেন।
৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। ইনিংসের শুরুতেই দিলশান মাদুশঙ্কার বলে ৫ রান করে ফেরেন মাজ সাদাকাত। এরপর কোনো রান না করেই আউট হন বাবর আজম। ৩.৩ ওভারে ১৪ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান।
সেখান থেকে দলের হাল ধরেন ফখর জামান ও সাদ বেগ। তৃতীয় উইকেটে ১৪৯ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে ফেরান তাঁরা। ৭৫ বলে ৭৪ রান করেন ১৯ বছর বয়সী সাদ বেগ। এটি ছিল পাকিস্তানের হয়ে তাঁর প্রথম ওয়ানডে অর্ধশতক। অন্যদিকে ফখর খেলেন ৯৯ বলে ১২৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১১টি চার ও ৬টি ছক্কা।
এই সেঞ্চুরি ফখরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১২তম। ৩০০ বা তার বেশি রান তাড়া করতে নেমে এটি তাঁর চতুর্থ শতক। পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এই কীর্তি আর কারও নেই। ওয়ানডে ফাইনালে দ্বিতীয়বারের মতো শতক করে পাকিস্তানের হয়ে সাঈদ আনোয়ারের পর এই তালিকায় জায়গা করে নেন তিনি।
ফখর ও সাদ বেগের বিদায়ের পর আবারও কিছুটা চাপে পড়ে পাকিস্তান। ২৩০ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল আরও ৯৬ রান। তখন দলের ভরসা হয়ে ওঠেন আরাফাত মিনহাস ও হাসান নেওয়াজ। ষষ্ঠ উইকেটে ৯৪ রানের জুটি গড়েন তাঁরা। মাত্র ৩১ বলে ৬১ রান করেন আরাফাত। তাঁর ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৪টি ছক্কা। অন্য প্রান্তে হাসান নেওয়াজ ৪৫ বলে অপরাজিত ৩৭ রান করেন।
শেষ দিকে আরাফাত আউট হলেও পাকিস্তানের জয় আটকানো যায়নি। জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান বাকি থাকতে অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন। ৪৮.৩ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৩১ রান তুলে শিরোপা নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন ফখর জামান। পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাট ও বল হাতে অবদানের জন্য সিরিজসেরা হন আরাফাত মিনহাস।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ওয়ানডে ফাইনালে ৩২৬ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডে ভারতের পাশে বসেছে পাকিস্তান। ২০০২ সালে লর্ডসে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের ফাইনালে ইংল্যান্ডের দেওয়া ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল ভারত। দুই দশকের বেশি সময় পর একই কীর্তি গড়ল পাকিস্তান।
পাকিস্তানের জন্য এই শিরোপা আরও তাৎপর্যপূর্ণ। দলটি সর্বশেষ ২০০৮ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত কিটপ্লাই কাপে ভারতকে হারিয়ে বহুজাতিক ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ঘরের মাঠে আবারও এমন শিরোপা জয়ের আনন্দ পেল তারা।




