একটি সেঞ্চুরিই বদলে দিল শ্রেয়াস আইয়ারের টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিং। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৪৩ বলে অপরাজিত ১০২ রান করে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম শতক তুলে নেন ভারতের অধিনায়ক। সেই ইনিংসের পর আইসিসির সর্বশেষ ব্যাটিং র‍্যাঙ্কিংয়ে এক লাফে ১৮ ধাপ এগিয়েছেন তিনি।

প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের সেরা দশে জায়গা করে নিয়েছেন আইয়ার। বর্তমানে তার অবস্থান সাত নম্বরে।

ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আইয়ারের ওপরে আছেন দুইজন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ২৭ বলে অপরাজিত ৩৭ রান করা ঈশান কিষান আছেন শীর্ষে। ১০ বলে ২১ রান করা অভিষেক শর্মা আছেন দ্বিতীয় স্থানে।

র‍্যাঙ্কিংয়ের তিন নম্বরে পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান। চার ও পাঁচ নম্বরে আছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক ও জস বাটলার।

ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি বোলিং র‍্যাঙ্কিংয়েও বড় পরিবর্তন এসেছে। পাকিস্তানের স্পিনার আবরার আহমেদ শীর্ষস্থান হারিয়ে নেমে গেছেন দুই নম্বরে। তার জায়গা নিয়েছেন আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খান।

এশিয়ান গেমসে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না পাওয়াই আবরারের র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলেছে। সেমিফাইনাল ও ফাইনাল মিলিয়ে তিনি নিয়েছেন মাত্র একটি উইকেট।

অন্যদিকে রশিদ খান আবারও টি-টোয়েন্টি বোলারদের এক নম্বর জায়গা দখল করেছেন। এটি তার ক্যারিয়ারে অষ্টমবারের মতো এই র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠা।

উন্নতি হয়েছে ভারতের বাঁহাতি স্পিনার অক্ষর প্যাটেলেরও। সর্বশেষ তিন ম্যাচে ছয় উইকেট নিয়ে ১৬ ধাপ এগিয়ে সাত নম্বরে উঠে এসেছেন তিনি।

বাংলাদেশের দুই স্পিনার নাসুম আহমেদ ও মেহেদী হাসানও এগিয়েছেন। নাসুম তিন ধাপ এগিয়ে আট নম্বরে উঠেছেন। আর মেহেদী ১০ ধাপ এগিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন নয় নম্বরে। সর্বশেষ দুই ম্যাচে নাসুম একটি ও মেহেদী তিনটি উইকেট নিয়েছেন।

ওয়ানডে ব্যাটিং র‍্যাঙ্কিংয়েও পরিবর্তন এসেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অপরাজিত ২২৩ রান করা শুবমান গিল শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছেন। এটি ছিল তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি।

দুই নম্বরে থাকা নিউজিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেলের সঙ্গে গিলের ব্যবধান এখন ৪৭ রেটিং পয়েন্ট।

এদিকে প্রথম ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করলেও পরের দুই ম্যাচে ২৯ ও শূন্য রান করায় এক ধাপ নেমে তিন নম্বরে চলে গেছেন বিরাট কোহলি। তার জায়গায় দুইয়ে উঠে এসেছেন ড্যারিল মিচেল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের শাই হোপও বড় লাফ দিয়েছেন। ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে অপরাজিত ১৬২ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলে দুই ধাপ এগিয়ে ছয় নম্বরে উঠেছেন তিনি।

একই ম্যাচে সেঞ্চুরি করা লোকেশ রাহুল সাত ধাপ এগিয়ে দশ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছেন। যদিও তার ১০০ রানের ইনিংস ভারতকে হার থেকে বাঁচাতে পারেনি।

ওয়ানডে বোলিং র‍্যাঙ্কিংয়েও নতুন মুখ এসেছে সেরা দশে। ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচে তিন উইকেট নিয়ে ১২ ধাপ এগিয়ে দশ নম্বরে উঠেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেইডেন সিলস।

সর্বশেষ র‍্যাঙ্কিং তাই একাধিক ক্রিকেটারের জন্য বড় পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে এসেছে। তবে সবচেয়ে বড় লাফটি শ্রেয়াস আইয়ারের, একটি সেঞ্চুরিতেই ১৮ ধাপ এগিয়ে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ের সেরা দশে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।