বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন সহকারী কোচ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার মালিবঙ্গওয়ে মাকেতাকে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে চুক্তি করেছে বোর্ড। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত জাতীয় দলের সঙ্গে শিগগিরই যোগ দেবেন তিনি।
৪৬ বছর বয়সী মাকেতার কোচিংয়ে দুই দশকের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার লেভেল-৪ সনদপ্রাপ্ত কোচ। জাতীয় দল থেকে শুরু করে ‘এ’ দল, অনূর্ধ্ব-১৯ দল, জাতীয় একাডেমি এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের সহকারী কোচ ছিলেন মাকেতা। ২০১৯ বিশ্বকাপেও প্রোটিয়াদের কোচিং স্টাফের সদস্য ছিলেন তিনি। ওই সময়ে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ এবং শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচিং দলে ছিলেন মাকেতা।
জাতীয় দলের বাইরে খেলোয়াড় গড়ে তোলার কাজেও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জাতীয় একাডেমির প্রধান কোচ ছিলেন তিনি। ২০২৩-২৪ মৌসুমে তাঁর অধীনে সাউথ আফ্রিকা এমার্জিং দল সিএসএ ওয়ানডে কাপের দ্বিতীয় বিভাগের শিরোপা জেতে।
মাকেতার সর্বশেষ দায়িত্ব ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দল ও জাতীয় একাডেমির সঙ্গে। তরুণ ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপের জন্য প্রস্তুত করার কাজেও তিনি যুক্ত ছিলেন। এই অভিজ্ঞতাই বাংলাদেশ দলের বর্তমান তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নয়নে কাজে লাগাতে চায় বিসিবি।
নতুন দায়িত্ব পেয়ে মাকেতা বাংলাদেশের দলে যোগ দিতে নিজের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। বিসিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দলের সাফল্যে ইতিবাচক অবদান রাখতে চান। তরুণ ও সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করতে এবং প্রধান কোচ ফিল সিমন্সসহ অন্য কোচদের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের উন্নয়নে সহায়তা করার কথাও জানান তিনি।
মাকেতা দায়িত্ব নিচ্ছেন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের জায়গায়। জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচের দায়িত্ব শেষ করে সালাহউদ্দিন এখন বিসিবির হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করছেন।
নতুন দায়িত্বের শুরুতেই মাকেতাকে ব্যস্ত সূচির মুখোমুখি হতে হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট এবং আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের অংশগ্রহণে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রস্তুতিতে তিনি কাজ করবেন।
এরপর বাংলাদেশের সামনে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরও। ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় মাকেতার দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা দলটির প্রস্তুতিতে কাজে লাগতে পারে—যদিও এর প্রভাব মাঠে কেমন হবে, তা নির্ধারণ করবে দলের পারফরম্যান্স ও সময়ের সঙ্গে তাঁর কাজের ফল।
