পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ফুটবল মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন তাঁর সাবেক কোচ হোসে মরিনিয়ো। তবে রোনালদোর ফুটবল ক্যারিয়ার এখনই শেষ হয়ে যাচ্ছে, এমনটা মনে করেন না তিনি। মরিনিয়োর চাওয়া, যেদিন রোনালদো চূড়ান্তভাবে ফুটবলকে বিদায় জানাবেন, সেদিন যেন বিদায়ের মুহূর্তটি আরও সুন্দর ও সম্মানজনক হয়।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রিয়াল মাদ্রিদের সংবাদ সম্মেলনে রোনালদোর অবসর নিয়ে কথা বলেন মরিনিয়ো। লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোনালদোর এই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত। তবে জাতীয় দল ছাড়ার অর্থ তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারের সমাপ্তি নয়।

মরিনিয়োর ভাষায়, ‘এটি অবসর নয়। তার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়নি। যারা তাকে চেনেন, তারা জানেন, ক্যারিয়ারে এখনো তার অনেক লক্ষ্য অর্জনের বাকি আছে।’

এরপর নিজের বিশেষ চাওয়ার কথা জানান পর্তুগিজ এই কোচ। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু চাই, যেদিন সে ফুটবলার হিসেবে চূড়ান্ত অবসর নেবে, সেই দিনটি যেন গতকালের দিনের চেয়ে আলাদা হয়।’

রোনালদো ভবিষ্যতে কোচিং পেশায় আসতে পারেন কি না, সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নও করা হয় মরিনিয়োকে। তবে এ বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি। তাঁর মতে, রোনালদো এখনো একজন সক্রিয় ফুটবলার। তাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলার সময় আসেনি।

২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। এর মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালে শুরু হওয়া তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটল।

পর্তুগালের হয়ে ২৩ বছরে ২৩৪টি ম্যাচ খেলেছেন এই ফরোয়ার্ড। গোল করেছেন ১৪৬টি। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ও সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড দুটিই তাঁর দখলে।

বিদায়বার্তায় রোনালদো বলেন, পর্তুগালের জার্সি গায়ে ২৩ বছর খেলার সুযোগ পাওয়া তাঁর জন্য বড় সম্মানের বিষয় ছিল। এবার জাতীয় দলের সাত নম্বর জার্সি নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার সময় এসেছে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় দলের হয়ে তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়। এ ছাড়া ২০১৯ ও ২০২৫ সালে উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপাও জিতেছে পর্তুগাল তাঁর নেতৃত্বে।

কোচের সঙ্গে বিরোধের পর বিদায়

রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষটা অবশ্য প্রত্যাশিতভাবে হয়নি। পর্তুগালের বর্তমান কোচ জর্জে জেসুসের সঙ্গে বিরোধের জের ধরেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর নরওয়ের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচে তাঁকে মাঠে নামানো হয়নি। এরপর ১ অক্টোবর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকবেন না জানতে পেরে ৩০ সেপ্টেম্বর অনুমতি ছাড়াই দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান রোনালদো।

এ ঘটনায় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটি ১৯ অক্টোবর তাঁকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও ২৫৫ ইউরো জরিমানা করে। পরে রোনালদো নিজের ভুলের জন্য সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং শাস্তি মেনে নেওয়ার কথা জানান।

অন্যদিকে, জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্তটি রোনালদোর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন জর্জে জেসুস। পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনও তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যতে এই তারকার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার উদ্‌যাপনে বিশেষ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

আল নাসরে এখনো চলছে রোনালদোর লড়াই

জাতীয় দল ছাড়লেও ক্লাব ফুটবল চালিয়ে যাবেন রোনালদো। সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে এখনো মাঠে নামছেন তিনি। ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।

ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনালদোর অধ্যায় শেষ হলেও ব্যক্তিগত ও দলীয় অর্জনের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে তাঁর সামনে।

মরিনিয়োর বক্তব্যেও উঠে এসেছে সেই বিশ্বাস। রিয়াল মাদ্রিদে ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রোনালদোকে কোচিং করিয়েছেন তিনি। সাবেক শিষ্যের সামর্থ্য ও মানসিকতা সম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন এই কোচ।

তাই জাতীয় দল থেকে বিদায়ের ঘটনাকে রোনালদোর শেষ বিদায় হিসেবে দেখতে চান না মরিনিয়ো। তাঁর প্রত্যাশা, ফুটবলের মঞ্চে রোনালদোর শেষ দিনটি আসবে নিজের শর্তে, আরও সুন্দর ও স্মরণীয় এক বিদায়ের মধ্য দিয়ে।