লিওনেল মেসির জন্য আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ রাতটি হলো স্বপ্নের মতো। বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচে একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে জাতীয় দলের অধ্যায়ের ইতি টেনেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে শেষবারের মতো মাঠে নেমে মেসি বিদায় নিলেন জয়ের মধ্য দিয়েই।
ম্যাচের শুরু থেকেই রাতটির আবেগ আলাদা ছিল। জাতীয় সংগীতের সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি মেসি। পাশে ছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি এবং মাঠের বাইরে তাঁর তিন সন্তান। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও জানিয়েছে, জাতীয় সংগীত চলার সময় মেসি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
ম্যাচে অবশ্য আবেগের পাশাপাশি নিজের চেনা ফুটবলও দেখিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর নেওয়া কর্নার থেকে নিকোলাস ওতামেন্দি হেডে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। এরপর নিকো পাজকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন মেসি। ৬১ মিনিটে পাজের গোলে ব্যবধান হয় ২-০।
এরপর আসে সেই মুহূর্ত, যার অপেক্ষায় ছিল পুরো স্টেডিয়াম। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের বিদায়ী ম্যাচে স্কোরশিটে নাম লেখান মেসি। শেষ পর্যন্ত ৩-০ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলো। ২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকে তিনি হয়ে উঠেছেন দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার। আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, বিদায়ের আগে তাঁর রেকর্ড ছিল ২০৭ ম্যাচ ও ১২৫ গোল; বেনিনের বিপক্ষে শেষ গোলের পর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৬-এ।
জাতীয় দলের হয়ে মেসির সবচেয়ে বড় সাফল্যের মধ্যে রয়েছে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ জয় এবং ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা শিরোপা। ২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি, যদিও শিরোপার লড়াইয়ে স্পেনের কাছে হেরে যায় দলটি। এরপরই জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান মেসি।
আগস্টে অবসরের ঘোষণা দিয়ে মেসি জানিয়েছিলেন, সিদ্ধান্তটি তাঁর জন্য কষ্টের হলেও তিনি বুঝতে পারছেন সময় এসেছে। একই সঙ্গে বলেছিলেন, আর্জেন্টিনার জার্সির জন্য তিনি সবসময় নিজের সবটুকু দিয়েছেন। তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য জায়গা করে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসর মানেই মেসির ফুটবল থেকে পুরোপুরি অবসর নয়। তিনি এখনো ক্লাব ফুটবলে Inter Miami CF-এর হয়ে খেলছেন। ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর চুক্তি ২০২৮ সালের এমএলএস মৌসুম পর্যন্ত রয়েছে।
তাই আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির গল্প শেষ হলেও ফুটবল মাঠে তাঁর পথ এখনো পুরোপুরি থামেনি। কিন্তু নীল-সাদা জার্সিতে যে দৃশ্যটি দেখা গেল বুয়েনস আইরেসে, সেটিই হয়ে থাকল এক দীর্ঘ অধ্যায়ের শেষ পৃষ্ঠা—একটি অধ্যায়, যেখানে মেসি শুধু ট্রফি জেতেননি; সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আর্জেন্টিনার মানুষের হৃদয়ও জয় করেছেন।
