ঘরের মাঠে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই সামনে রেখে ২৮ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। শনিবার ঘোষিত এই দলে নতুন মুখ হিসেবে জায়গা পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রোনান বেঞ্জামিন সুলিভান ও ইংল্যান্ডপ্রবাসী মোহাম্মদ মাহি খান। দুজনই বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে খেললেও সিনিয়র জাতীয় দলে এখনো তাঁদের অভিষেক হয়নি।
জাতীয় দলের প্রধান কোচ টমাস ডুলির ঘোষিত দলে অভিজ্ঞ ফুটবলারদের পাশাপাশি প্রবাসী খেলোয়াড়দেরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, জামাল ভূঁইয়া, রাকিব হোসেন ও শেখ মোরসালিনের মতো পরিচিত মুখ রয়েছেন প্রাথমিক তালিকায়।
নতুন দুই মুখের মধ্যে রোনান সুলিভান এরই মধ্যে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে পরিচিত নাম। গত এপ্রিলে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই করেন জোড়া গোল। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালের টাইব্রেকারেও গোল করে দলের শিরোপা জয়ে অবদান রাখেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া রোনান বর্তমানে সেন্ট জোসেফস হকসের হয়ে কলেজ ফুটবল খেলছেন। পড়াশোনা ও কলেজ ফুটবলের সূচির কারণে সাফে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম জানিয়েছেন, আগামী ১ নভেম্বর থেকে জাতীয় দলের জন্য উপলব্ধ থাকবেন তিনি।
রোনানের যমজ ভাই ডেক্লান সুলিভানও বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ দলের শিরোপাজয়ী স্কোয়াডে ছিলেন। তবে এবারের সিনিয়র দলের প্রাথমিক তালিকায় জায়গা হয়নি তাঁর।
অন্য নতুন মুখ মাহি খানও বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের অভিজ্ঞতা নিয়ে সিনিয়র ক্যাম্পে আসছেন। ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এই স্ট্রাইকার বর্তমানে দেশটির নবম স্তরের ক্লাব মলটন এফসির হয়ে খেলছেন। চলতি মৌসুমে সাত ম্যাচে নয় গোল করেছেন তিনি। ক্লাব পর্যায়ের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের পর এবার জাতীয় দলের কোচের নজর কেড়েছেন মাহি।
প্রাথমিক দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ ও বিশ্বনাথ ঘোষ। গত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত ফিফা আসিয়ান কাপে তাঁরা ছিলেন না। চোটের কারণে সেই প্রতিযোগিতায় খেলতে না পারা ফরোয়ার্ড ফয়সাল আহমেদ ফাহিমও ফিরেছেন দলে। সুযোগ পেয়েছেন ঈসা ফয়সাল, মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও কাজেম শাহ।
অন্যদিকে, আসিয়ান কাপের চূড়ান্ত দলে থাকা শাহরিয়ার ইমন, শাকিল আহাদ তপু ও এস এম মঞ্জুরুর রহমান এবার প্রাথমিক দল থেকে বাদ পড়েছেন। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে আসিয়ান কাপে গোল করেছিলেন শাহরিয়ার ইমন।
মূল ২৮ সদস্যের বাইরে অতিরিক্ত অনুশীলনের জন্য ডাকা হয়েছে দুই গোলকিপার মোহাম্মদ আসিফ ও মোহাম্মদ ইসহাক আকন্দকে। তাঁরা ক্যাম্পে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও ঘোষিত মূল প্রাথমিক দলের সদস্য নন।
আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে জাতীয় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বিদেশে বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলা ফুটবলারদের সবাইকে শুরু থেকেই পাওয়া যাবে না। বিশেষ করে হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমের মতো খেলোয়াড়দের যোগদানের ক্ষেত্রে ৯ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে। ছয় দলের প্রতিযোগিতায় স্বাগতিক বাংলাদেশ রয়েছে ‘এ’ গ্রুপে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে খেলবে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ।
সূচি অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। ১১ নভেম্বর গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। দুই গ্রুপের সেরা দুটি করে দল উঠবে সেমিফাইনালে। ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে দুটি সেমিফাইনাল এবং ১৭ নভেম্বর ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রতিযোগিতা।
২০১৮ সালের পর আবারও বাংলাদেশে ফিরছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ঘরের মাঠের এই আসরে নতুন দুই তরুণ ফরোয়ার্ডের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের আক্রমণভাগে বাড়তি বিকল্প তৈরি করতে পারে। তবে প্রাথমিক তালিকা থেকে কারা শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত দলে জায়গা করে নেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
বাংলাদেশের ২৮ সদস্যের প্রাথমিক দল
গোলকিপার: মিতুল মারমা, সুজন হোসেন ও মেহেদী হাসান শ্রাবণ।
ডিফেন্ডার: তপু বর্মণ, বিশ্বনাথ ঘোষ, সাদ উদ্দিন, রহমত মিয়া, জিদান আলেকজান্ডার ইউসুফ, ঈসা ফয়সাল, তারিক রায়হান কাজী ও জায়ান আহমেদ।
মিডফিল্ডার: সোহেল রানা, সোহেল রানা জুনিয়র, মোহাম্মদ হৃদয়, হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, কাজেম শাহ ও জামাল ভূঁইয়া।
ফরোয়ার্ড: ফারহান আলী ওয়াহিদ, শেখ মোরসালিন, রাকিব হোসেন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, ফাহামিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, শুকি ইতোফুসা, মিনহাজুল করিম স্বাধীন, রোনান বেঞ্জামিন সুলিভান ও মোহাম্মদ মাহি খান।
অতিরিক্ত অনুশীলনের জন্য: মোহাম্মদ আসিফ ও মোহাম্মদ ইসহাক আকন্দ।



