২৩ বছরের অপেক্ষা ঘোচানোর লক্ষ্য নিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে এবারের টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী জাতীয় দলের কোচ টমাস ডুলি। অধিনায়ক তপু বর্মণের চাওয়া, ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করা, যাতে পরবর্তী সময়ে দলে যোগ দিতে যাওয়া তারকা মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীকে একটি জয় উপহার দেওয়া যায়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রাক্‌-টুর্নামেন্ট সংবাদ সম্মেলনে কোচ ও অধিনায়ক নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের প্রতিযোগিতা শুরু করবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি শুরু হবে রাত ৮টায়। ২০০৩ সালে সর্বশেষ সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর কেটে গেছে ২৩ বছর, কিন্তু আর শিরোপা জেতা হয়নি।

কোচ টমাস ডুলির বিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা থাকলে এবার শিরোপা জেতা সম্ভব। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন আর নিজেদের আন্ডারডগ ভাবতে পারে না। ঘরের মাঠে সমর্থকদের প্রত্যাশা যেমন বেশি, তেমনি দলটির সামর্থ্যও বেড়েছে। তাই মাঠে নিজেদের প্রমাণ করাই এখন খেলোয়াড়দের দায়িত্ব।

অধিনায়ক তপু বর্মণও শিরোপা জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না। তাঁর মতে, ঘরের মাঠে খেলার সুযোগটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ। সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে দল হিসেবে ঐক্যবদ্ধ থেকে খেলতে হবে। চাপ থাকলেও সেটিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে চান তিনি। তপুর বিশ্বাস, এই চাপ থেকেই ভালো পারফরম্যান্স বেরিয়ে আসতে পারে।

তবে ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ দলে থাকছেন না হামজা চৌধুরী। ক্লাবের ব্যস্ততার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগে তাঁকে ছাড়তে পারছে না ক্লাব কর্তৃপক্ষ। আগামী ৯ নভেম্বরের দিকে তাঁর জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা। একই কারণে প্রথম ম্যাচে পাওয়া যাবে না ইংল্যান্ডপ্রবাসী ফরোয়ার্ড ফারহান আলী ওয়াহিদকেও। দুজনের অনুপস্থিতি দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলেও জয় দিয়ে শুরু করার ব্যাপারে আশাবাদী তপু।

হামজার নেতৃত্ব ও মাঠে সতীর্থদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষমতার প্রশংসা করেছেন তপু। তাঁর মতে, দলের জন্য হামজার উপস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রথম ম্যাচে তাঁকে না পাওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই জানা ছিল। তাই ভুটানকে হারিয়ে জয়ী দল হিসেবে হামজাকে স্বাগত জানাতে চান অধিনায়ক।

এবার জামাল ভূঁইয়ার পরিবর্তে অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন তপু বর্মণ। এ বিষয়ে কোচ ডুলি জানান, রক্ষণভাগের একজন খেলোয়াড় অধিনায়ক হলে পেছন থেকে পুরো দলকে সংগঠিত করা সহজ হয়। সেন্টারব্যাক হিসেবে তপুর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের ওপর তাঁর আস্থা রয়েছে। তবে ডুলির মতে, নেতৃত্ব শুধু অধিনায়কের আর্মব্যান্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হামজা, সাদ উদ্দিনসহ দলের অন্য খেলোয়াড়দেরও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।

প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অবশ্য কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল বাংলাদেশের। টুর্নামেন্টের আগে এক সপ্তাহের ক্যাম্প হলেও কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারেনি দলটি। উপযুক্ত প্রতিপক্ষ না পাওয়া এবং খেলোয়াড়দের চোট ও ফিটনেস-সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজন সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন কোচ। তপু নিজেও পুরোপুরি ম্যাচ খেলার মতো ফিট ছিলেন না। তবে ভুটানের বিপক্ষে তাঁকে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী কোচ।

এদিকে বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। আগামী ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে স্বাগতিকেরা। অন্য গ্রুপে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল উঠবে সেমিফাইনালে। আগামী ১৪ নভেম্বর দুটি সেমিফাইনাল এবং ১৭ নভেম্বর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

শ্রীলঙ্কার কোচ আবদুল্লাহ আল মুতেয়ারিও এবারের সাফে বাংলাদেশকে অন্যতম ফেবারিট হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, ঘরের মাঠ, সমর্থকদের উপস্থিতি এবং হামজা ও ফারহানের মতো খেলোয়াড় বাংলাদেশের শক্তি বাড়িয়েছে। অন্যদিকে ভারতও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। ফলে প্রতিযোগিতায় কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হবে স্বাগতিকদের।

বাংলাদেশ সর্বশেষ ২০০৩ সালে ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ২৩ বছর পর আবারও দেশের মাটিতে শিরোপা জয়ের সুযোগ এসেছে। কোচ ডুলির চোখ এখন ট্রফিতে, আর অধিনায়ক তপুর লক্ষ্য ভুটানকে হারিয়ে সেই পথের প্রথম ধাপ পেরোনো। সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করে বাংলাদেশ এবার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।