ফুটবল মাঠে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি মানবিক উদ্যোগেও দৃষ্টান্ত গড়েছেন হামজা চৌধুরী। ফিলিস্তিনের গাজার শিশুদের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য ১ লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের এই মিডফিল্ডার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তহবিল সংগ্রহের তথ্য জানান হামজা। এ উদ্যোগে অংশ নেওয়া, অনুদান দেওয়া এবং বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি আয়োজনটি সফল করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করায় যুক্তরাজ্যভিত্তিক ক্রীড়াবিদদের সংগঠন নুজুম স্পোর্টসকে ধন্যবাদ জানান।

গত ২৫ অক্টোবর লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে এ দাতব্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নুজুম স্পোর্টসের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হামজাকে নিয়ে আলোচনা সভার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্রীড়া স্মারক নিয়ে নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ক্রীড়াপ্রেমী ও সমর্থকেরা।

নিলামে হামজার লেস্টার সিটির হয়ে এফএ কাপজয়ী জার্সি বিক্রি হয় ৭ হাজার পাউন্ডে। তাঁর কমিউনিটি শিল্ডজয়ী পদক বিক্রি হয় ৩ হাজার পাউন্ডে। টিকিট বিক্রি ও নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ দাতব্য সংস্থা চিলড্রেন নট নাম্বার্সের মাধ্যমে গাজার শিশুদের সহায়তায় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংগৃহীত অর্থের মূল লক্ষ্য গাজার যেসব শিশুর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের সহায়তা করা। হামজার বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক শিশুর জন্য উন্নত চিকিৎসা পেতে গাজার বাইরে বা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এ তহবিল এমন শিশুদের চিকিৎসার ব্যবস্থা ও স্থানান্তরের কাজে ব্যয় করা হবে।

চিলড্রেন নট নাম্বার্স একটি অলাভজনক সংস্থা, যা সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিস্তিনি শিশুদের সহায়তায় কাজ করে। চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজন মেটাতে শিশুদের পাশে দাঁড়ানো তাদের কাজের অংশ। হামজার উদ্যোগে সংগৃহীত অর্থ সংস্থাটির মাধ্যমে শিশুদের চিকিৎসা সহায়তায় ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছে।

এত অর্থ সংগ্রহের পরও গাজার শিশুদের দুর্ভোগের তুলনায় এ উদ্যোগকে সামান্য অবদান বলে মনে করেন হামজা। তাঁর বক্তব্য, এখনো অনেক কিছু করার বাকি। তবে ছোট উদ্যোগও মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে। এ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি ফিলিস্তিনের মানুষের কষ্ট লাঘব ও স্থায়ী শান্তির জন্য প্রার্থনাও করেছেন তিনি।

মাঠে বাংলাদেশের হয়ে খেলা হামজা এর আগেও ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। ২০২১ সালে লেস্টার সিটির হয়ে এফএ কাপ জয়ের পর উদ্‌যাপনের সময় তাঁর হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা দেখা গিয়েছিল। এবার গাজার শিশুদের চিকিৎসার জন্য তহবিল সংগ্রহে যুক্ত হয়ে ফুটবলের বাইরেও নিজের অবস্থান তুলে ধরলেন তিনি।

হামজার এই উদ্যোগ আবারও দেখিয়েছে, খেলোয়াড়দের পরিচিতি ও ক্রীড়াঙ্গনের স্মারক মানবিক কাজে মানুষের সমর্থন জোগাড় করতে ভূমিকা রাখতে পারে। গাজার শিশুদের চিকিৎসায় সংগৃহীত অর্থ কতটা সহায়তা দিতে পারে, তা নির্ভর করবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ওপর।