ফুটবল মাঠে লাল কার্ড দেখা অস্বাভাবিক নয়। তবে একটি ম্যাচে ৫৩ জন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাকে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা সত্যিই বিরল। ব্রাজিলের মিনাস গেরাইস রাজ্যের অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে উবেরলান্দিয়া ও মামোরের মধ্যকার ম্যাচে ঘটেছে এমনই নজিরবিহীন ঘটনা। দুই দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক মা/রামারির পর রেফারির প্রতিবেদনে মোট ৫৩ জনকে বহিষ্কারের তথ্য উঠে এসেছে। এর আগে একটি ফুটবল ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩৬টি লাল কার্ড দেখানোর রেকর্ড ছিল।

গত রোববার (১ নভেম্বর) মিনাস গেরাইসের পার্কে দো সাবিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় উবেরলান্দিয়া ও মামোরের মধ্যকার অনূর্ধ্ব-২০ দ্বিতীয় বিভাগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগ। ম্যাচের শুরু থেকেই উত্তেজনা ছিল। দ্বিতীয়ার্ধের সপ্তম মিনিটে উবেরলান্দিয়ার লুইকে বিসপো দো সান্তোস দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এর পর উবেরলান্দিয়ার কয়েকজন কর্মকর্তা মাঠে ঢুকে রেফারিদের দিকে আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে যান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাঁদেরও লাল কার্ড দেখানো হয় এবং নিরাপত্তার কারণে প্রায় ৪০ মিনিট খেলা বন্ধ রাখতে হয়।

খেলা আবার শুরু হওয়ার পরও উত্তেজনা কমেনি। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে মামোরে দলের হয়ে তৃতীয় গোল করেন এক খেলোয়াড়। এতে দলটির ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-১। গোল উদ্‌যাপনের সময় মামোরের খেলোয়াড় ডাভি প্রতিপক্ষের ডাগআউটের দিকে উসকানিমূলক অঙ্গভঙ্গি করেন বলে রেফারির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর উবেরলান্দিয়ার একজন কোচিং স্টাফ মাঠে ঢুকে ওই খেলোয়াড়কে ধাক্কা দেন। মুহূর্তেই দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচিং স্টাফ এবং মাঠের অন্য সদস্যরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। রেফারি ফার্নান্দো প্যাট্রিক মোদেস্তের ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী, সংঘর্ষে অংশ নেওয়া ৪৮ জনকে লাল কার্ড দেখানো হয়। এর আগে ম্যাচের বিভিন্ন ঘটনায় আরও তিন খেলোয়াড় বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। সব মিলিয়ে ৪৩ খেলোয়াড় ও ৮ কোচিং স্টাফের সদস্যকে লাল কার্ড দেখানো হয়। উবেরলান্দিয়ার দুই ক্লাব কর্মকর্তাকেও বহিষ্কার করা হয়। ফলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৩।

রেফারির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংঘর্ষ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে সব খেলোয়াড়কে মাঠে দাঁড় করিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে লাল কার্ড দেখানো সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ম্যাচ শেষ ঘোষণা করেন তিনি। এ ঘটনায় রেফারিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে সহিংসতার হুমকির বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

মাঠের সংঘর্ষের পরও উত্তেজনার অবসান হয়নি। দুই দলের ড্রেসিংরুম ও স্টেডিয়ামের বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। কয়েকটি দরজা, শাওয়ার, লকার, বেঞ্চসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুরের খবর প্রকাশিত হয়েছে। ঘটনার পর উবেরলান্দিয়া ক্লাব সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। ক্লাবটির বক্তব্য, মামোরের পর্যাপ্ত খেলোয়াড় না থাকায় ফিরতি ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব নয়; তাই খেলোয়াড়সুলভ আচরণের অংশ হিসেবে তারা ম্যাচটি ছেড়ে দিচ্ছে। এর ফলে মামোরে ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

এর আগে ফুটবল ম্যাচে সর্বোচ্চ লাল কার্ড দেখানোর রেকর্ড ছিল ৩৬টি। ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগের ক্লাব আতলেতিকো ক্লাইপোলে ও ভিক্টোরিয়ানো আরেভাসের ম্যাচে দুই দলের ৩৬ জন খেলোয়াড়কে বহিষ্কার করা হয়েছিল। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের নথিতে ওই ঘটনাই এত দিন সর্বোচ্চ হিসেবে উল্লেখ ছিল। ব্রাজিলের ম্যাচে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও ক্লাব কর্মকর্তাসহ ৫৩ জন বহিষ্কারের ঘটনা সেই সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।