রাজধানীর গণপরিবহন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে নতুন দুই মেট্রোরেল রুটের স্টেশন ও রেলপথ নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিতে চারটি প্যাকেজে চুক্তি করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ভবনে এসব চুক্তি সই হয়। চুক্তির আওতায় ১১.৫০৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ, আটটি উড়াল স্টেশন এবং দুটি ডিপোর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল

এমআরটি লাইন-১-এর রুট হবে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত প্রায় ৩১ কিলোমিটার। এই রুটে মোট ২১টি স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। রেলপথের একটি অংশ মাটির নিচ দিয়ে এবং অন্য অংশ উড়ালপথে নির্মাণ করা হবে।

নতুন চুক্তির আওতায় এ রুটে ৫.০০৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ এবং জোয়ার সাহারা, বোয়ালিয়া ও মস্তুলে তিনটি উড়াল স্টেশন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ডিপো এলাকায় ওয়ার্কশপ, ট্রেন রাখার শেড ও পরিচালনা ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রসহ ৪৯টি স্থাপনা নির্মাণের কাজ রয়েছে। ডিপোর অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল জয়েন্ট ভেঞ্চার। অন্যদিকে, উড়াল রেলপথ ও তিনটি স্টেশন নির্মাণ করবে সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চার।

হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা রুটে পাঁচটি স্টেশন

এমআরটি লাইন-৫-এর উত্তর অংশ হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। এই রুটে মোট ১৪টি স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সদ্য সই হওয়া চুক্তির আওতায় হেমায়েতপুর, বালিয়াপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারায় পাঁচটি উড়াল স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা অংশে মোট ৬.৫০ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ তৈরি করা হবে।

এ রুটের ডিপোতে প্রশাসনিক ভবন, অপারেশন কন্ট্রোল সেন্টার, ডিপো কন্ট্রোল সেন্টার, গুদাম, ট্রেন রাখার জায়গা এবং ওয়ার্কশপ নির্মাণ করা হবে। ডিপোর অবকাঠামো নির্মাণ করবে সিপিসি-হানিল জয়েন্ট ভেঞ্চার। উড়াল রেলপথ ও পাঁচটি স্টেশনের কাজ পেয়েছে সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চার।

দুই প্রকল্পে ব্যয় প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা

এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫ নির্মাণে সম্মিলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে এমআরটি লাইন-১-এর জন্য প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা এবং এমআরটি লাইন-৫-এর জন্য প্রায় ৮৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) যৌথভাবে অর্থায়ন করছে।

প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজ ২০৩৩ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা নির্ভর করবে নির্মাণের অগ্রগতি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের ওপর।

যানজট কমানোই প্রধান লক্ষ্য

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, রাজধানীর যানজট কমানো এবং যাতায়াতের সময় বাঁচানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য পূরণে আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

নির্মাণকাজে নিরাপত্তা ও গুণগত মান বজায় রাখার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নির্মাণের কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের ভোগান্তি ও পরিবেশের ওপর প্রভাব কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী এবং ঠিকাদারদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বানও জানান।

যাত্রীদের কী সুবিধা হতে পারে

নতুন দুই রুট চালু হলে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে বিমানবন্দর, কমলাপুর, হেমায়েতপুর ও ভাটারার মতো গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যের যোগাযোগ সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও নিয়মিত যাত্রীদের জন্য এটি যাতায়াতের নতুন বিকল্প তৈরি করতে পারে।

তবে এসব সুবিধা পেতে নির্মাণকাজ শেষ করা, স্টেশন ও রেলপথ প্রস্তুত করা এবং প্রয়োজনীয় পরিচালনব্যবস্থা চালু করা জরুরি। আপাতত চারটি প্যাকেজের চুক্তি মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্প দুটি শেষ করার লক্ষ্য পূরণ হলে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় আরও বড় পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে।