হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAB)। দেশের বিমান চলাচল খাতে সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন এই টার্মিনালকে আধুনিক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার জন্য জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে operating agreement, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং ব্যবস্থাপনা কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে। চুক্তির বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত হওয়ার পরই পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

সরকারের লক্ষ্য আগামী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল সীমিত পরিসরে চালু করা। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ২০টি ফ্লাইট এই টার্মিনাল থেকে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তবে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হবে operating agreement সম্পন্ন হওয়া, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হওয়ার ওপর নির্ভর করে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দেশের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর একটি। আধুনিক যাত্রীসেবা, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

নতুন টার্মিনাল চালু হলে বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণক্ষমতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় আরও বেশি সক্ষমতা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিমান চলাচল খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও দক্ষ পরিচালনা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে তৃতীয় টার্মিনাল বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন সহযোগিতা দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন বড় প্রকল্পে জাপানি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলো কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে।

CAAB জানিয়েছে, তৃতীয় টার্মিনালের কার্যক্রম চালুর আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যাত্রী ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং পরিচালন পদ্ধতির সব বিষয় নিশ্চিত করা হবে।

বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ কেন্দ্র। যাত্রী ও ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন টার্মিনালের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।

তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে দেশের বিমানবন্দর সেবায় নতুন মানদণ্ড তৈরি হবে এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।