রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন সংযোজন হতে যাওয়া দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্প MRT Line-1-এর ট্রেন ও ডিপো সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে। প্রকল্পের rolling stock এবং depot equipment কেনার জন্য আহ্বান করা দরপত্র আগামী ১২ অক্টোবর খোলা হবে।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (DMTCL) সূত্রে জানা গেছে, MRT Line-1 প্রকল্পের আওতায় আধুনিক প্রযুক্তির ট্রেন ও ডিপো পরিচালনার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হবে। এ জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে দরপত্র প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে।

প্রায় ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ MRT Line-1 প্রকল্পটি ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এবং নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ পর্যন্ত দুটি অংশে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের Airport-Kamalapur অংশের বড় একটি অংশ থাকবে ভূগর্ভে। অন্যদিকে Notun Bazar-Pitalganj অংশে থাকবে elevated ও underground উভয় ধরনের রুট। ফলে এটি দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল ব্যবস্থা হিসেবে তৈরি হবে।

সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, MRT Line-1-এর কাজ ২০৩৩ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর যানজট কমানো, যাতায়াতের সময় সাশ্রয় এবং গণপরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বর্তমানে ঢাকার দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপের কারণে আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোকে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

MRT Line-1 প্রকল্পে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি নিরাপদ, দ্রুত ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। ভূগর্ভস্থ অংশ নির্মাণের মাধ্যমে রাজধানীর ব্যস্ত সড়কের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় শহরে ভূগর্ভস্থ মেট্রো কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে প্রকল্প সফল করতে নির্মাণের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও দক্ষ পরিচালনা ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রেন ও ডিপো সরঞ্জামের দরপত্র খোলার মাধ্যমে MRT Line-1 প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে যাচাই ও চুক্তি প্রক্রিয়া শেষে সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় সক্ষমতা বাড়াতে MRT Line-1-এর পাশাপাশি অন্যান্য মেট্রোরেল প্রকল্পও বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এসব প্রকল্প সম্পন্ন হলে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।