চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম রেল। তবে লোকোমোটিভ সংকটের কারণে বর্তমানে নিয়মিত কনটেইনার ট্রেন পরিচালনা করতে পারছে না বাংলাদেশ রেলওয়ে।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সীমিত সংখ্যক ইঞ্জিন দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনাকে অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে। ফলে বন্দর থেকে কনটেইনার পরিবহনে রেল সেবার সক্ষমতা কমে গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের প্রধান কেন্দ্র। বন্দরের পণ্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে পরিবহনে রেলকে তুলনামূলক কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে কনটেইনার পৌঁছাতে রেলপথের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।

তবে রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে কনটেইনার পরিবহন থেকে আয় কমেছে। ২০২৩-২৪ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে এ খাতের আয় প্রায় ২৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ কমেছে।

ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেলপথে কনটেইনার পরিবহন কমে গেলে সড়ক ও নৌপথের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। এতে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয়—দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো পর্যাপ্ত লোকোমোটিভ নিশ্চিত করা এবং বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহনে রেলের সক্ষমতা বাড়ানো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক ও সমন্বিত লজিস্টিক ব্যবস্থা তৈরি করা জরুরি। এজন্য রেল অবকাঠামো ও সরঞ্জাম উন্নয়নের দিকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য পরিবহনে রেলের ভূমিকা ধরে রাখতে নতুন ইঞ্জিন সংযোজন ও পরিচালন সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।