ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণে একসঙ্গে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বরের একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রকল্প তিনটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমানবন্দর–কমলাপুর এমআরটি লাইন-১, হেমায়েতপুর–ভাটারা এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন এবং গাবতলী–দাশেরকান্দি এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন। এর মধ্যে প্রথম দুটি জাপানের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাব, আর লাইন-৫ সাউদার্ন নতুন প্রকল্প হিসেবে অনুমোদন পেয়েছে।

এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার। সংশোধিত প্রস্তাবে এর ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত প্রায় ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার অংশ পুরোপুরি পাতালপথে নির্মাণ করা হবে। এ অংশে থাকবে ১২টি পাতাল স্টেশন। পূর্বাচল অংশে থাকবে উড়াল ও পাতাল—দুই ধরনের স্টেশন। প্রকল্পটি ২০৩৩ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। সংশোধিত প্রস্তাবে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি অর্থায়ন ও জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার ঋণ—দুই উৎস থেকেই অর্থ আসবে।

এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। সংশোধিত প্রস্তাবে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। আগের পরিকল্পনায় ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও নতুন প্রস্তাবে সময় বাড়িয়ে ২০৩২ সাল করা হয়েছে।

তৃতীয় প্রকল্পটি এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন। গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটের ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার অংশ হবে পাতালপথে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।

লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়ন থেকে আসবে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত।

প্রকল্পটির আওতায় রেললাইন ও স্টেশন নির্মাণের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা, রেলওয়ে সিস্টেম, কোচ ও ডিপো সরঞ্জাম সংগ্রহ, জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন এবং ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ করা হবে।

পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, লাইন-৫ সাউদার্নের মাধ্যমে ঢাকার পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য রয়েছে। এডিবি ও দক্ষিণ কোরিয়া প্রকল্পটির অর্থায়নে যুক্ত হয়েছে; এডিবি মূলত পরামর্শক ও সিভিল প্যাকেজে এবং দক্ষিণ কোরিয়া সিস্টেম প্যাকেজে অর্থায়ন করবে।

একনেকের মূল এজেন্ডায় শুরুতে এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পটি ছিল। পরে একই সভায় জাপানের অর্থায়নে চলমান লাইন-১ ও লাইন-৫ নর্দার্নের সংশোধিত ব্যয় ও মেয়াদ প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

তিন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিমানবন্দর, কমলাপুর, হেমায়েতপুর, ভাটারা, গাবতলী ও দাশেরকান্দিসহ ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার মধ্যে মেট্রোরেলভিত্তিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হবে। সরকারি প্রকল্প তথ্যেও মেট্রোরেল সম্প্রসারণের লক্ষ্য হিসেবে গণপরিবহন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা এবং যানজট কমানোর কথা উল্লেখ রয়েছে।