ইতালির জাতীয় ফুটবল দলে তৈরি হলো এক বিরল ইতিহাস। দীর্ঘ ১১১ বছর পর আজ্জুরি জার্সিতে শুরুর একাদশে একসঙ্গে মাঠে নামলেন দুই ভাই। উয়েফা নেশন্স লিগে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে পিও এস্পোসিতো ও সেবাস্তিয়ানো এস্পোসিতোকে একাদশে রাখেন ইতালির কোচ রবার্তো মানচিনি।

দুই ভাইয়ের এই উপস্থিতির মধ্য দিয়ে বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক রেকর্ড গড়েছে এস্পোসিতো পরিবার। ইতালির সিনিয়র জাতীয় দলে তিন ভাইয়ের খেলার বিরল কীর্তি এখন তাদের দখলে।

তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন পিও ও সেবাস্তিয়ানো। এর আগে ১৯১৫ সালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আলদো চেভেনিনি ও লুইজি চেভেনিনি একসঙ্গে ইতালির শুরুর একাদশে খেলেছিলেন।

এরপর দীর্ঘ এক শতাব্দীর বেশি সময় ইতালির জাতীয় দলের মূল একাদশে একসঙ্গে দুই ভাইকে দেখা যায়নি। ২০০০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফিলিপ্পো ইনজাঘি ও সিমোনে ইনজাঘি একসঙ্গে মাঠে ছিলেন, তবে তারা শুরু থেকে খেলেননি।

এস্পোসিতো পরিবার অবশ্য এই কীর্তিকে আরও বড় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। পরিবারের বড় ভাই সালভাতোর এস্পোসিতো ২০২২ সালে কোচ রবার্তো মানচিনির অধীনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইতালির জাতীয় দলে অভিষেক করেন।

এরপর জাতীয় দলের নীল জার্সিতে জায়গা করে নেন ছোট দুই ভাই সেবাস্তিয়ানো ও পিও। ফলে ইতালির ফুটবল ইতিহাসে প্রথম পরিবার হিসেবে তিন ভাই জাতীয় দলের হয়ে খেলার গৌরব অর্জন করল এস্পোসিতো পরিবার।

তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচটিও ইতালির জন্য ছিল বিশেষ। ৪-১ গোলের বড় জয় দিয়ে নতুন অধ্যায়ে শুরু করেছে আজ্জুরিরা। ইতালির ডাগআউটে ফিরে কোচ রবার্তো মানচিনির জন্যও এটি ছিল স্বস্তির জয়।

ম্যাচের প্রথমার্ধেই আলেসান্দ্রো বাস্তোনি, দাভিদে ফ্রাত্তেসি ও অভিষিক্ত মাইকেল কায়োদের গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইতালি।

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরতি বলে নিখুঁত হেডে দলের চতুর্থ গোল করেন পিও এস্পোসিতো। এই জয়ের মাধ্যমে ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো ঘরের বাইরে অ্যাওয়ে ম্যাচে তিন বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে জয় পেল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

দুই ভাইয়ের একসঙ্গে মাঠে নামা এবং এস্পোসিতো পরিবারের তিন ভাইয়ের জাতীয় দলে খেলার ঘটনা ইতালিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে নতুন এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকল।