সরকারি ব্যবস্থাপনায় কিডনি রোগীদের সপ্তাহে দুইবারের বেশি ডায়ালাইসিস করানোর সুযোগ নেই বলে অভিযোগ করেছেন ডায়ালাইসিস সেন্টার (পিপিপি) রক্ষা ও রোগী কল্যাণ কমিটির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান রিপন। জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউটের (নিকডু) ডায়ালাইসিস সেন্টার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রোগীদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় কেন্দ্রটি চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। সেখানে কমিটির পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. লুৎফর রহমান রিপন।

নিকডুর ডায়ালাইসিস সেন্টার নিয়ে উদ্বেগ

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৭ সালে ভারতীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান স্যান্ডরের সঙ্গে সরকারের ১০ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় নিকডুতে ডায়ালাইসিস সেন্টারটি চালু হয়। ৫৯টি মেশিন নিয়ে শুরু হওয়া এই কেন্দ্রে বর্তমানে ১৩০ জন রোগী নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন।

কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ভর্তুকিসহ এখানে প্রতি সেশনে রোগীদের খরচ হয় ৬২১ টাকা। এ ছাড়া ১৮ জন রোগী বিনা মূল্যে ডায়ালাইসিসের সুবিধা পাচ্ছেন।

রোগীদের আশঙ্কা, স্যান্ডরের সঙ্গে পিপিপি চুক্তি নবায়ন না করে কেন্দ্রটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় নেওয়া হলে সেবার মান ও প্রাপ্যতা কমে যেতে পারে। এতে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল রোগীরা চিকিৎসাসংকটে পড়তে পারেন।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় যেসব সমস্যার অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে রোগীদের পক্ষ থেকে সরকারি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা নিয়ে কয়েকটি সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে শিডিউল না পাওয়া, প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম থাকা, ডায়ালাইসিস মেশিনে ত্রুটি এবং প্রয়োজনীয় উপকরণের সংকট।

কমিটির দাবি, সরকারি হাসপাতালে প্রতি সেশনে ডায়ালাইসিসের প্রকৃত খরচ অন্তত ২ হাজার টাকা। অথচ সরকারি হিসাবে এই খরচ ৪১৭ টাকা দেখানো হচ্ছে। ফলে সরকারি হিসাবের সঙ্গে বাস্তব ব্যয়ের পার্থক্য রয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।

নতুন ব্যবস্থা চালু করতে লাগতে পারে ছয় মাস

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, নতুন মেশিন স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় জনবল প্রস্তুত করতে সরকারের প্রায় ছয় মাস সময় লাগতে পারে। এই সময় রোগীদের অন্য সরকারি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করাতে হবে। এতে নিয়মিত চিকিৎসা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন রোগীরা।

পিপিপির আওতায় সেবা চালুর দাবি

সংবাদ সম্মেলনে রোগীদের বর্তমান চিকিৎসাসেবার মান ও সুযোগ-সুবিধা অক্ষুণ্ণ রেখে নিকডুর ডায়ালাইসিস কার্যক্রম পিপিপির আওতায় চালু রাখার দাবি জানানো হয়।

স্যান্ডরের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করা সম্ভব না হলেও প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল কাজে লাগিয়ে অন্য কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেবা চালু রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন কমিটির নেতারা।

রোগীদের জীবন ও চিকিৎসার অধিকার বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

নিয়মিত ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল রোগীদের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।