ডেঙ্গুতে এক দিনে সাতজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৭২ রোগী

বাংলাদেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যু অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৭২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত দৈনিক ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৩৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৩১২ জনে।

ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন রোগী

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের, তিনজন ঢাকা শহরের এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সময়ে নতুন রোগী ভর্তির ক্ষেত্রে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগে সংক্রমণ দেখা গেছে। চট্টগ্রাম বিভাগে ২৬০ জন, খুলনা বিভাগে ২৩৩ জন, বরিশাল বিভাগে ১৯৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৭৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৭ জন, রংপুর বিভাগে ৫৯ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩২৩ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ২২৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

চলতি বছরে মৃত্যু ৩৪২, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখের বেশি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরের শুরু থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ লাখ ১০ হাজার ৩১২ জনের মধ্যে ১ লাখ ৪ হাজার ১৯৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে ৫ হাজার ৭৭১ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মাসভিত্তিক হিসাবে, সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে মারা গেছেন ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং জুনে ১৩ জন। অক্টোবরের প্রথম ১৭ দিনেই মৃত্যু হয়েছে ৯৭ জনের। ফলে চলতি মাসেও ডেঙ্গুর প্রাণহানি উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কী করবেন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। ফুলের টব, ছাদের পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার, ডাবের খোসা এবং পানি জমতে পারে এমন জায়গায় এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে।

দিনের বেলাতেও এডিস মশা কামড়াতে পারে। তাই ঘরে ও বাইরে মশা থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী মশারি ব্যবহার এবং জমে থাকা পানি অপসারণ গুরুত্বপূর্ণ। জ্বর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করলেই হবে না। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, কার্যকর মশকনিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৈনিক তথ্য সংক্রমণ ও মৃত্যুর পরিস্থিতি বোঝার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তবে দীর্ঘমেয়াদে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রতিটি বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের আশপাশে জমে থাকা পানি সরানোর পাশাপাশি জ্বরের রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনতে পারলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৈনিক ডেঙ্গু প্রতিবেদন, ১৭ অক্টোবর ২০২৬।