দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় সকাল ৮টা পর্যন্ত এসব মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে দেশে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সম্মিলিত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৪০। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৩২ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া সাত শিশুর মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু সন্দেহভাজন হামজনিত হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। অন্য শিশুটির মৃত্যু পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর হামজনিত মৃত্যু হিসেবে গণনা করা হয়েছে। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখ করার সময় নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মৃত্যুর পার্থক্য বিবেচনায় রাখা জরুরি।

নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মৃত্যুর হিসাব

১৫ মার্চ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২৪০ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মৃত্যুর সংখ্যা ১০৫। অন্যদিকে, হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ১ হাজার ১৩৫ জনের মৃত্যু সন্দেহভাজন হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে।

এই দুই শ্রেণির তথ্য একত্র করে মোট মৃত্যুর হিসাব করা হলেও সব মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরীক্ষাগারে হাম শনাক্ত হওয়ার প্রমাণ নেই। তাই নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু ও সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা আলাদাভাবে প্রকাশ করা রোগের প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এক দিনে নতুন সন্দেহভাজন রোগী ১,২৩২

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ২৬ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে নতুন করে ১ হাজার ২৩২ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে পরীক্ষাগারে আরও ৬৩ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এতে ১৫ মার্চ থেকে শনাক্ত সন্দেহভাজন রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৪ এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা হয়েছে ২৩ হাজার ৫৪১।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৯ হাজার ১২৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯০ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

শিশুদের সুরক্ষায় নজরদারি জরুরি

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এর সাধারণ লক্ষণ। শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিলে নিউমোনিয়া, পানিশূন্যতা এবং অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যা তৈরি হতে পারে।

শিশুর শরীরে হামসদৃশ উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি বয়স অনুযায়ী হামের টিকা নিশ্চিত করা, আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশনা অনুসরণ করা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন রোগী এবং মৃত্যুর হিসাব আলাদা করে দেখানো হয়েছে। পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়ন ও জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম পরিকল্পনার জন্য এই পৃথক হিসাব গুরুত্বপূর্ণ।