হাম-রুবেলা প্রতিরোধে সারা দেশে আরও প্রায় ৩৫ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে চায় সরকার। ইতোমধ্যে দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে আগের কর্মসূচিতে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে আগামী এক মাসের মধ্যে তাদের টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর কড়াইল টিঅ্যান্ডটি মাঠে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শনকালে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত। তিনি বলেন, কোনো শিশু যাতে টিকাদান কর্মসূচির বাইরে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, হাম প্রতিরোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। তাঁদের প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এবার যেসব শিশু বিভিন্ন কারণে বাদ পড়েছে, তাদের কাছে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ এই কার্যক্রমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, প্রত্যন্ত চরাঞ্চল এবং শহরের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিশুদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবন্ধী শিশুদেরও টিকাদান নিশ্চিত করতে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী যেসব শিশু আগে টিকা পায়নি, তাদের শনাক্ত করে টিকা দেওয়া হচ্ছে। কর্মসূচির শুরুতে প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য জানানো হয়েছিল। সর্বশেষ হিসাবে সেই লক্ষ্য প্রায় ৩৫ লাখ বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

টিকাদান কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে ইউনিসেফ, গ্যাভি, যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন। কড়াইলের কার্যক্রম পরিদর্শনে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রতিনিধি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

ইউনিসেফের কমিউনিকেশন অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি বিভাগের প্রধান মিগেল মাতেওস মুনোজ জানান, দেশে এখনো প্রায় ৩৪ লাখ শিশুর টিকাদান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুঝুঁকি কমাতে এসব শিশুর কাছে দ্রুত পৌঁছানো জরুরি।

চলতি বছর দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের পর নিয়মিত টিকাদান ব্যবস্থার ঘাটতি চিহ্নিত করার কাজও শুরু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় ৪ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের টিকাদান কর্মসূচি ও রোগ নজরদারি ব্যবস্থার স্বাধীন পর্যালোচনা চলছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু নতুন করে টিকা দেওয়াই নয়, ভবিষ্যতে যেন কোনো শিশু টিকাদান থেকে বাদ না পড়ে, সে ব্যবস্থাও শক্তিশালী করতে হবে।

আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বিশেষ কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে টিকা দেওয়ার কাজ চলবে।