বাংলাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৪। তবে পরীক্ষাগারে হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মৃত্যুর সংখ্যা ১০৪। নতুন সাতটি মৃত্যুই সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ২৩ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের ১ হাজার ১১০টি নতুন সন্দেহজনক সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে পরীক্ষাগারে আরও ২৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে সন্দেহজনক রোগীর মোট সংখ্যা ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা ২৩ হাজার ২৭৩।

সন্দেহজনক ও নিশ্চিত মৃত্যুর হিসাব আলাদা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু এবং পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মৃত্যু আলাদাভাবে গণনা করা হয়। ফলে দুই ধরনের মৃত্যুর সংখ্যা যোগ করে যে মোট হিসাব পাওয়া যায়, তার সবগুলোকে নিশ্চিত হামে মৃত্যু বলা যাবে না।

২৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত হিসাবে, সন্দেহজনক হামজনিত মৃত্যু ১ হাজার ১১০টি এবং নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু ১০৪টি। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে নতুন কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। নতুন সাতটি মৃত্যুই সন্দেহজনক তালিকায় রয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি প্রায় দুই লাখ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন। এ সময়ে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।

এই পরিসংখ্যান সংক্রমণের বিস্তার এবং হাসপাতালের ওপর চাপের চিত্র তুলে ধরছে। তবে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ও পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা এক নয়। তাই সংক্রমণ এবং মৃত্যুর প্রকৃত চিত্র বুঝতে পরীক্ষার ফল ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

টিকাদানে ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ

হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার মাধ্যমে রোগটি প্রকাশ পায়। বিশেষ করে টিকা না পাওয়া শিশুদের গুরুতর অসুস্থতা ও জটিলতার ঝুঁকি বেশি।

রয়টার্সের ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতির পেছনে টিকাদানের ঘাটতি, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং দুর্গম এলাকার শিশুদের কাছে টিকা পৌঁছানোর সমস্যার কথা উঠে এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে হাম প্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজের আওতা ৯০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজের আওতা ৮৬ শতাংশে নেমে আসে। হাম প্রতিরোধে সাধারণত প্রায় ৯৫ শতাংশ টিকাদান কভারেজ প্রয়োজন।

শিশুদের সুরক্ষায় কী জরুরি

হামের উপসর্গ দেখা দিলে শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া জরুরি। জ্বরের সঙ্গে ফুসকুড়ি দেখা দিলে অবহেলা না করে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নিতে হবে। অসুস্থ শিশুকে অন্য শিশুদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখার বিষয়ে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুর বয়স অনুযায়ী হাম প্রতিরোধী টিকার নির্ধারিত ডোজ সম্পন্ন হয়েছে কি না, অভিভাবকদের তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। টিকার বিষয়ে সন্দেহ থাকলে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্র বা স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরও কার্যকর নজরদারি, সময়মতো চিকিৎসা এবং টিকাদান কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। তবে পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়নের জন্য সন্দেহজনক সংক্রমণ, পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগী এবং দুই ধরনের মৃত্যুর হিসাব আলাদা করে দেখা জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরবর্তী হালনাগাদে সংক্রমণ ও মৃত্যুর চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।