দেশের বাজারে ক্রেতা সংকট ও বিক্রি কমে যাওয়ায় কঠিন সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। দোকান খুলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না প্রত্যাশিত ক্রেতা। বিক্রি আগের তুলনায় অর্ধেকেরও নিচে নেমে যাওয়ায় দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন ও অন্যান্য খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। লোকসান কমাতে অনেকেই কর্মচারী ছাঁটাই করে নিজেরাই দোকান পরিচালনা করছেন।

দীর্ঘ ২৮ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতায় এমন পরিস্থিতি কখনো দেখেননি বলে জানিয়েছেন এক ব্যবসায়ী। তাঁর ভাষায়, দিন যত যাচ্ছে, ব্যবসার অবস্থা ততই খারাপ হচ্ছে।

নিজের দোকানের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সকাল থেকে দোকান খুলে বসে থাকলেও ক্রেতা আসছেন না। সারা দিনে মাত্র একজন ক্রেতা এসেছিলেন। পণ্য পছন্দ হলেও দাম নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিক্রি হয়নি।

তিনি বলেন, ‘সকাল থেকেই দোকান খুলছি। এই পর্যন্ত একটা কাস্টমার এসেছে। সে এসে পছন্দ করেছে, কিন্তু দাম মেলেনি। আমার কেনা দামের চেয়েও কম দাম বলেছে। আমিও বিক্রি করতে পারিনি।’

বিক্রি আগের তুলনায় অর্ধেকেরও কম

ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি মানুষের কেনাকাটার সক্ষমতাও কমেছে। আগে যে পরিমাণ বিক্রি হতো, এখন তার অর্ধেকও হচ্ছে না।

ওই ব্যবসায়ী বলেন, সন্ধ্যা ৮টার দিকে অনেক সময় মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর ক্রেতা আসার সম্ভাবনাও কম থাকে। ফলে প্রতিদিনের বিক্রির হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

তাঁর মতে, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবও ব্যবসা-বাণিজ্যে পড়ছে। পাশাপাশি মার্কেটের সামগ্রিক পরিবেশ আগের তুলনায় খারাপ হয়েছে।

কর্মচারী ছাঁটাই করে দোকান সামলাচ্ছেন মালিকরা

ব্যবসার আয় কমে গেলেও দোকান পরিচালনার খরচ কমছে না। কর্মচারীর বেতন, দোকান ভাড়া ও অন্যান্য ব্যয় বহন করতে না পেরে অনেক ব্যবসায়ী কর্মী কমিয়ে দিচ্ছেন।

ওই ব্যবসায়ীর ভাষ্য অনুযায়ী, আগে কোনো দোকানে তিনজন কর্মচারী থাকলে এখন একজনকে বাদ দিয়ে দুজন দিয়ে চালানো হচ্ছে। যেখানে দুজন ছিলেন, সেখানে একজনকে ছাঁটাই করা হচ্ছে। আবার কোনো দোকানে একজন কর্মচারী থাকলেও তাঁকে বাদ দিয়ে মালিক নিজেই দোকান সামলাচ্ছেন।

নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার দোকানে আগে কর্মচারী ছিল। কিন্তু একজন কর্মচারী রাখলে মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। আমার যে বেচাকেনা, তাতে এই খরচ পোষায় না। তাই কর্মচারী রাখিনি। এখন নিজেই একা দোকান চালাচ্ছি।’

লোকসান দিয়ে আর কত দিন ব্যবসা চালাবেন?

ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা এখন লোকসান সামলে টিকে থাকা। দিনের পর দিন বিক্রি কমতে থাকলে কত দিন ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তাঁরা।

ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘এভাবে কত দিন লস দিয়ে থাকব? হয়তো দুই মাস, চার মাস, ছয় মাস কিংবা এক বছর। এরপর তো আর থাকা যাবে না। শেষ পর্যন্ত দোকান উঠিয়ে দিতে হবে। লোকসান দিয়ে তো মানুষ বেশিদিন ব্যবসা করতে পারে না।’

ব্যবসায়ীদের মতে, ক্রেতা ফিরে না এলে এবং বিক্রি না বাড়লে ছোট ও মাঝারি দোকানগুলোর পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। এর প্রভাব পড়তে পারে কর্মসংস্থানেও। কারণ, বিক্রি কমার সঙ্গে সঙ্গে কর্মচারী ছাঁটাইয়ের প্রবণতাও বাড়ছে।

দোকান খোলা রেখেও ক্রেতার অপেক্ষায় দিন কাটানো ব্যবসায়ীদের কাছে এখন বড় বাস্তবতা। তাঁদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে তাঁদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে পারেন।