বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে আগস্ট মাসে ধীরগতির চিত্র দেখা গেছে। বেসরকারি খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি পরিমাপকারী পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (PMI) সূচক ৭ দশমিক ৯ পয়েন্ট কমে ৪৯ দশমিক ৯-এ নেমেছে, যা গত ২৩ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
PMI সূচক সাধারণত একটি দেশের উৎপাদন, নতুন অর্ডার, কর্মসংস্থান, সরবরাহ পরিস্থিতি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের গতি সম্পর্কে ধারণা দেয়। সূচক ৫০-এর ওপরে থাকলে সম্প্রসারণ এবং ৫০-এর নিচে থাকলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সংকোচনের ইঙ্গিত দেয়।
সর্বশেষ সূচকে দেখা গেছে, আগস্টে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের কার্যক্রমে সামগ্রিকভাবে দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উৎপাদন ও সেবা খাতে ধীরগতি PMI কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
উৎপাদন খাতে নতুন অর্ডার, উৎপাদন কার্যক্রম এবং ব্যবসায়িক আস্থায় কিছুটা চাপ দেখা গেছে। বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি, চাহিদার পরিবর্তন এবং ব্যবসায়িক ব্যয়ের চাপও এ খাতের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছে।
সেবা খাতেও আগস্টে দুর্বল প্রবণতা দেখা গেছে। ব্যবসা, পরিবহন, আর্থিক সেবা এবং অন্যান্য পরিষেবা খাতে কার্যক্রমের গতি আগের তুলনায় কমেছে বলে সূচকে উঠে এসেছে।
তবে সব খাতে একই চিত্র দেখা যায়নি। কৃষি খাত টানা ১২ মাস ধরে সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে। দেশের কৃষিভিত্তিক উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রম অর্থনীতিতে কিছুটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
এদিকে নির্মাণ খাতও নতুন করে প্রবৃদ্ধিতে ফিরেছে। অবকাঠামো ও নির্মাণ কার্যক্রমে গতি বাড়ায় এই খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, PMI সূচকের এই পতন বেসরকারি খাতের চাহিদা ও বিনিয়োগ পরিস্থিতির ওপর চাপের ইঙ্গিত দেয়। তবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য উৎপাদন, রপ্তানি এবং বিনিয়োগ কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী মাসগুলোতে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গতি নির্ভর করবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বিনিয়োগ পরিবেশ, বৈদেশিক বাণিজ্য পরিস্থিতি এবং ব্যবসায়িক আস্থার ওপর।
আগস্টের PMI সূচক দেশের অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদি চাপের ইঙ্গিত দিলেও কৃষি ও নির্মাণ খাতের ইতিবাচক প্রবণতা কিছুটা ভারসাম্য তৈরি করছে।
