বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সর্বোচ্চ ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগের কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সরকারি রপ্তানি ঋণ সংস্থা UK Export Finance (UKEF)। ব্রিটিশ পণ্য ও সেবা যুক্ত থাকা যোগ্য প্রকল্পের ক্রেতারা এ অর্থায়ন সুবিধা নিতে পারবেন।

UKEF-এর বাংলাদেশে বর্তমান দেশভিত্তিক অর্থায়ন সক্ষমতা ১ বিলিয়ন থেকে ২ বিলিয়ন পাউন্ডের মধ্যে। যুক্তরাজ্য সরকারের সর্বশেষ দেশভিত্তিক নীতিতেও বাংলাদেশের জন্য এই সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিবহন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, বিমানবন্দর, উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বৃহত্তর অবকাঠামো খাতের প্রকল্পে এই সহায়তা কাজে লাগানো যেতে পারে। লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশে এমন প্রকল্প চিহ্নিত করা, যেখানে যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তি, দক্ষতা ও পণ্য-সেবা ব্যবহারের পাশাপাশি UKEF-এর অর্থায়ন যুক্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে আলোচনা করতে UKEF-এর একটি প্রতিনিধিদল ২ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফর করে। সফরে তারা সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রকল্প ও অর্থায়নের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করে।

৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (ICCB)-এর সঙ্গে বৈঠকেও সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে UKEF-এর পক্ষে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্যবিষয়ক কাউন্সেলর মার্ক বিরেল প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

UKEF-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি শুধু সরাসরি ঋণ নয়, বিভিন্ন ধরনের গ্যারান্টি ও বীমা সুবিধাও দিয়ে থাকে। এর মধ্যে Buyer Credit Facility, Standard Buyer Loan Guarantee, Direct Lending Facility এবং Early Project Services Guarantee রয়েছে।

তবে ২ বিলিয়ন পাউন্ডকে বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পের জন্য অনুমোদিত অর্থ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি বাংলাদেশের জন্য UKEF-এর সম্ভাব্য দেশভিত্তিক অর্থায়ন সক্ষমতা; প্রতিটি প্রকল্পকে আলাদাভাবে যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

UKEF-এর Buyer Credit Facility-এর আওতায় সাধারণত বিদেশি ক্রেতার নেওয়া ঋণের বিপরীতে ব্যাংককে গ্যারান্টি দেওয়া হয়, যাতে তারা যুক্তরাজ্য থেকে পণ্য, সেবা বা সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম কিনতে পারে। এই সুবিধায় ঋণের মেয়াদ সাধারণত দুই বছর বা তার বেশি হতে পারে এবং বিভিন্ন কাঠামোয় সরকারি, বেসরকারি ও করপোরেট ক্রেতাদের সহায়তা করা যায়।

এই অর্থায়নে যুক্তরাজ্যের সরবরাহকারীর অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। UKEF-এর নিয়ম অনুযায়ী, প্রকল্পভেদে যুক্তরাজ্য থেকে পণ্য ও সেবা সংগ্রহের নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। বড় প্রকল্পে UKEF-এর Buyer Credit Facility-এর সঙ্গে Direct Lending Facility-ও যুক্ত করা যেতে পারে।

অর্থায়ন স্থানীয় মুদ্রাতেও দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। UKEF জানিয়েছে, তাদের কিছু ঋণ ও গ্যারান্টি ৬০টির বেশি স্থানীয় মুদ্রায় দেওয়া যেতে পারে, যা বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

বাংলাদেশে UKEF-এর এই আগ্রহ এমন সময়ে সামনে এলো, যখন অবকাঠামো, জ্বালানি, পরিবহন ও উৎপাদন খাতে বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। যুক্তরাজ্যের সরকারি সংস্থাটির প্রতিনিধিদলের সাম্প্রতিক সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিত করা এবং বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য ব্রিটিশ অর্থায়ন ও সরবরাহব্যবস্থার সুযোগ তুলে ধরা।

ফলে এখন সম্ভাব্য প্রকল্পগুলো কতটা দ্রুত চিহ্নিত ও প্রস্তুত করা যায় এবং সেগুলো UKEF-এর অর্থায়ন ও যুক্তরাজ্যের সরবরাহ-সংক্রান্ত শর্ত কতটা পূরণ করতে পারে, তার ওপর বাস্তব অর্থায়নের অগ্রগতি নির্ভর করবে।