সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকরা ফিড গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটারে ৬ টাকা কমানোর দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন গত ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যানের কাছে এ আবেদন করে।

সংগঠনটির প্রস্তাব, বর্তমানে প্রতি ঘনমিটার ৩৫ টাকা দরে কেনা ফিড গ্যাসের দাম কমিয়ে ২৯ টাকা করা হোক। তাদের ভাষ্য, এটি স্থায়ী মূল্য কাঠামো পরিবর্তনের দাবি নয়; সিএনজি স্টেশনগুলোর কমিশন বা মার্জিন পুনর্নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে এই ছাড় চাওয়া হয়েছে।

স্টেশন মালিকদের মূল যুক্তি, সিএনজি উৎপাদনে গ্যাসের পাশাপাশি বড় খরচ হয় বিদ্যুতে। গ্যাসকে চাপ প্রয়োগ করে যানবাহনে সরবরাহযোগ্য সিএনজিতে রূপান্তরের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। গত কয়েক বছরে বিদ্যুতের দাম বাড়ার পাশাপাশি গ্যাস সংকোচন ও সরবরাহের খরচও বেড়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

এর সঙ্গে বেড়েছে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যাংকঋণের সুদ ও চার্জ, লাইসেন্স নবায়ন, জমি ও স্থাপনা এবং নিরাপত্তা ব্যয়। কিন্তু এসব বাড়তি খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিএনজি ব্যবসায়ীদের কমিশন বা মার্জিন বাড়েনি বলে দাবি সংগঠনটির।

সংগঠনটির মহাসচিব ফারহান নূর বলেছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে মার্জিন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁর ভাষ্য, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বাড়লেও সিএনজি বিক্রির মার্জিন একবারও বাড়ানো হয়নি। জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলা দাবিটিকে যৌক্তিক বললেও মার্জিন বাড়ানোর উদ্যোগ না থাকায় এখন ফিড গ্যাসের ক্রয়মূল্য কমানোর দাবি জানানো হয়েছে।

স্টেশন মালিকদের আরেকটি বক্তব্য হলো, সিএনজির ফিড গ্যাসের ক্রয়মূল্য এবং ভোক্তা পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের বাড়তি পরিচালন ব্যয় অনুযায়ী ইচ্ছামতো দাম বাড়াতে পারেন না। ফলে খরচ বাড়লেও তার পুরোটা গ্রাহকের ওপর সরাসরি চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

এ অবস্থায় ফিড গ্যাসের দাম কমানোর পাশাপাশি সিএনজি ব্যবসার প্রকৃত ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে কমিশন বা মার্জিন পুনর্নির্ধারণের জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত চেয়েছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক স্টেশন দীর্ঘদিন লোকসান বহন করতে পারছে না এবং কিছু স্টেশন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

আবেদনের সঙ্গে বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি উৎপাদনে বিদ্যুৎ ব্যয়ের প্রমাণ হিসেবে ৫৫ পৃষ্ঠার বিদ্যুৎ বিলের কপি জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। আবেদনের অনুলিপি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং কয়েকটি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

এর আগে জুন মাসেও সিএনজি স্টেশন মালিকরা মার্জিন বাড়ানোর দাবি তুলেছিলেন। সরকারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ম্যাক্রো ফিসক্যাল ড্যাশবোর্ডে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটি তখন জানিয়েছিল—বিদ্যুৎ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়লেও দীর্ঘ সময় ধরে তাদের কমিশন বা মার্জিন বাড়েনি।

এখন ফিড গ্যাসের দাম কমানোর আবেদনটি বিইআরসির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে স্টেশন মালিকদের ক্রয় ব্যয় কমবে; তবে ভোক্তা পর্যায়ে সিএনজির বর্তমান বিক্রয়মূল্য কমবে কি না, সে বিষয়ে সংগঠনের দাবিতে কোনো প্রস্তাব নেই। তাদের মূল লক্ষ্য আপাতত স্টেশনগুলোর পরিচালন ব্যয়ের চাপ কমানো এবং পরে স্থায়ীভাবে মার্জিন পুনর্নির্ধারণ করা।