দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথা দীর্ঘদিন ধরে বলা হচ্ছে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে এখনো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে ঢাকাসহ দেশের বিমানবন্দরগুলো ট্রানজিট ও সংযোগ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

তবে এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে শুধু ভৌগোলিক সুবিধাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন শক্তিশালী স্থানীয় এয়ারলাইন, উন্নত বিমানবন্দর অবকাঠামো, প্রতিযোগিতামূলক পরিচালন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের স্থানীয় এয়ারলাইন খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধি একটি বড় বিষয়। পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ, আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনার দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ছাড়া আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়া কঠিন।

এ ছাড়া বিমান পরিচালনার বিভিন্ন খরচ, যেমন জ্বালানি, বিমানবন্দর চার্জ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ও একটি বড় বিবেচনার বিষয়। উচ্চ ব্যয় অনেক সময় নতুন রুট চালু ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করে।

যাত্রীদের জন্য সহজ ভ্রমণ নিশ্চিত করাও এভিয়েশন হাব তৈরির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা, ট্রানজিট সুবিধা এবং বিমানবন্দর সেবার মান উন্নত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য বিমানবন্দর উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের বিমানবন্দরকে শুধু যাত্রী ওঠানামার কেন্দ্র নয়, বরং ব্যবসা, পর্যটন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছে।

বাংলাদেশ এভিয়েশন খাতে সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে আঞ্চলিক যোগাযোগ, পর্যটন এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত উদ্যোগ।