সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয় আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ৩৯৩ কোটি ৭৩ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয় ছিল ৩৬২ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আয় বেড়েছে প্রায় ৩১ কোটি ডলার।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বরে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল তৈরি পোশাক। এ মাসে পোশাক রপ্তানি ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়ে ৩০৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারে উঠেছে, যা গত বছরের সেপ্টেম্বরে ছিল ২৮৩ কোটি ৯৮ লাখ ডলার।
পোশাকের দুই প্রধান অংশ—নিটওয়্যার ও ওভেন পোশাক—দুটিতেই সেপ্টেম্বর মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। মাসটিতে নিটওয়্যার রপ্তানি বেড়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
পোশাকের বাইরে কয়েকটি খাতেও রপ্তানি বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয় ২০ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি ২২ দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়েছে। হোম টেক্সটাইলের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যে ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি এসেছে ওষুধ খাতে। ইপিবির হিসাবে, সেপ্টেম্বরে ওষুধের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৬৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাস হিসাবেও ওষুধ খাতের রপ্তানি ৪০ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে।
তবে মাসভিত্তিক হিসাবে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। আগস্টে বাংলাদেশ ৪৪২ কোটি ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি করেছিল। সেই তুলনায় সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয় ১১ দশমিক ১১ শতাংশ কমেছে। ফলে সেপ্টেম্বরে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি থাকলেও আগের মাসের তুলনায় রপ্তানির গতি কমেছে।
পুরো প্রথম প্রান্তিকের হিসাবে অবশ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে মোট পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ২৩১ কোটি ৩২ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
এই তিন মাসে তৈরি পোশাক থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৭ কোটি ৮৬ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। নিটওয়্যার রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক ৫ দশমিক ১১ শতাংশ।
নন-আরএমজি খাতগুলোর মধ্যেও কয়েকটির তিন মাসের পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্য। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্যে ৩১ দশমিক ৫৫ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ১৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ১৬ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং হোম টেক্সটাইলে ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে কৃষিপণ্য এবং হিমায়িত ও জীবন্ত মাছের রপ্তানি কমেছে।
রপ্তানি বাজারের দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক বাজার হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২৫৯ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। যুক্তরাজ্য ১৩৭ কোটি ডলার নিয়ে দ্বিতীয় এবং জার্মানি ১২১ কোটি ৮০ লাখ ডলার নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
ইপিবি বলছে, প্রথম প্রান্তিকের রপ্তানি ফলাফলে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ও রপ্তানি খাতের স্থিতিস্থাপকতার প্রতিফলন রয়েছে। একই সঙ্গে বাজার ও পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো, পণ্যের মানোন্নয়ন এবং বাণিজ্য সহজ করার উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
সার্বিক হিসাবে তাই সেপ্টেম্বরের রপ্তানি তথ্যের দুটি দিক রয়েছে। একদিকে আগস্টের তুলনায় মাসিক আয় কমেছে, অন্যদিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে এবং অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেও সামগ্রিক রপ্তানি ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে।




