ওমানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ, রপ্তানি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করতে ওমানের সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (CEPA) করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ওমানের রাষ্ট্রদূত জামিল বিন হাজি বিন ইসমাইল আল বালুশির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এ আগ্রহের কথা জানান। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
বাণিজ্য ঘাটতি কমানোই অন্যতম লক্ষ্য
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ওমানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দিতে চায় সরকার। এ জন্য বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র খুঁজে বের করা এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (GCC) গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ওমানকে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত CEPA কার্যকর হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।
ভারতের সঙ্গে চুক্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরল ওমান
বৈঠকে ওমানের রাষ্ট্রদূত ভারতের সঙ্গে তাঁর দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বাংলাদেশের সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তি করার প্রস্তাব দেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তবে চুক্তির চূড়ান্ত শর্ত, বাস্তবায়নের কাঠামো কিংবা স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
যৌথ বিজনেস কাউন্সিল গঠনের আলোচনা
দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে বাংলাদেশ-ওমান যৌথ বিজনেস কাউন্সিল গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ উদ্যোগে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এবং ওমান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক আয়োজন এবং পরবর্তী সময়ে দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফরের বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব চিহ্নিত করা এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজে বের করার লক্ষ্য রয়েছে।
ওমানের বন্দর ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের সুযোগ
বৈঠকে ওমানের সোহর, দুকম ও সালালাহ বন্দরের পাশাপাশি দেশটির বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত।
এসব বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে আলোচনায় উঠে আসে। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে যোগাযোগ জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ওমানে কর্মরত বাংলাদেশিরাও সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ
ওমানের রাষ্ট্রদূত জানান, দেশটিতে প্রায় সাত লাখ বাংলাদেশি কাজ করছেন এবং ওমানের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছেন। দুই দেশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত ওমানের ঐতিহ্যবাহী ‘কুমা’ টুপি তৈরিতে বাংলাদেশের নারী কারিগরদের অবদানেরও প্রশংসা করেন।
বৈঠকে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ওমান দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
দুই দেশের মধ্যে CEPA চুক্তির উদ্যোগ এখনো আলোচনাপর্যায়ে রয়েছে। কারিগরি প্রস্তুতি, সম্ভাব্যতা যাচাই এবং পরবর্তী আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে চুক্তির চূড়ান্ত রূপ।








