ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানিতে আগস্ট মাসে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৬ সালের আগস্টে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে ডেনিম রপ্তানির মূল্য বেড়ে ১৩৪ দশমিক ০৮ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ বেশি। তবে বছরের প্রথম আট মাসের হিসাবে রপ্তানি এখনো নিম্নমুখী।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে ডেনিম রপ্তানির মূল্য ছিল ১১৮ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ইউরো। এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ১২ মিলিয়ন ইউরো।

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ইইউতে ডেনিম রপ্তানির মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৬৯ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ইউরো। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৯২৩ দশমিক ১১ মিলিয়ন ইউরো। অর্থাৎ আট মাসে রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ বা প্রায় ৫৪ মিলিয়ন ইউরো।

মাসিক প্রবৃদ্ধি বনাম আট মাসের চিত্র

বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি: ইউরোপীয় ইউনিয়ন

আগস্ট ২০২৬

+১২.৭১%

১৩৪.০৮ মিলিয়ন ইউরো

আগস্ট ২০২৫: ১১৮.৯৬ মিলিয়ন ইউরো

জানুয়ারি–আগস্ট ২০২৬

−৫.৮৫%

৮৬৯.১৩ মিলিয়ন ইউরো

২০২৫ সালের একই সময়ে: ৯২৩.১১ মিলিয়ন ইউরো

সূত্র: ইউরোস্ট্যাটের তথ্য, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত।

ইউরোপের বাজারেও বেড়েছে ডেনিম আমদানি

আগস্টে বাংলাদেশের রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববাজার থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেনিম আমদানিও বেড়েছে। ওই মাসে ইইউর মোট ডেনিম আমদানির মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৩০ দশমিক ১৬ মিলিয়ন ইউরো, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি।

আগস্টে ইইউর মোট ডেনিম আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ বেড়ে প্রায় ৩১ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। গত বছরের একই মাসে এই হার ছিল প্রায় ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ মাসিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ইউরোপের ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্বও বেড়েছে।

তবে আট মাসের হিসাবে চিত্রটি আলাদা। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশ্ববাজার থেকে ইইউর ডেনিম আমদানির মূল্য কমেছে ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ সময়ে বাংলাদেশের বাজার হিস্যা আগের বছরের প্রায় ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ থেকে কমে ২৯ দশমিক ৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

শীর্ষ সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ

রপ্তানি কমলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় ডেনিম সরবরাহকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান অক্ষুণ্ন রয়েছে। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ ৮৬৯ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ইউরোর ডেনিম রপ্তানি করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের রপ্তানি মূল্য ছিল ৫২৫ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ইউরো। তৃতীয় অবস্থানে থাকা তুরস্কের রপ্তানি মূল্য ছিল ৪৩৮ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ইউরো।

একই সময়ে পাকিস্তানের ডেনিম রপ্তানি কমেছে ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং তুরস্কের কমেছে ২১ দশমিক ০৮ শতাংশ। অন্যদিকে, মিশর ও চীনের রপ্তানি বেড়েছে যথাক্রমে ৩১ দশমিক ৪৬ ও ১৭ দশমিক ৭০ শতাংশ। ফলে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত থাকলেও ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

রপ্তানি বাড়াতে নজর দিতে হবে পণ্যের মূল্য ও সক্ষমতায়

বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রতিনিধিদের মতে, দীর্ঘদিনের উৎপাদন অভিজ্ঞতা, দক্ষ কর্মী এবং প্রতিষ্ঠিত সরবরাহব্যবস্থা ইউরোপের ডেনিম বাজারে দেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে শুধু বেশি পরিমাণে পণ্য উৎপাদন নয়, উন্নতমানের ও বেশি মূল্যসংযোজিত ডেনিম পণ্য তৈরির দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এবং বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বাসসকে বলেন, প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, উদ্ভাবন, স্থানীয় মূল্যসংযোজন বৃদ্ধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবেশ ও বাণিজ্যবিষয়ক শর্ত পূরণের প্রস্তুতি বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

আগস্টের পরিসংখ্যান বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানিতে নতুন গতি ফেরার ইঙ্গিত দিলেও আট মাসের ঘাটতি এখনো কাটেনি। বছরের বাকি সময়ে নতুন ক্রয়াদেশ, ইউরোপের বাজারে চাহিদা এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর রপ্তানি পরিস্থিতি বাংলাদেশের পরবর্তী অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলবে।