সোনামসজিদ স্থলবন্দরে বাণিজ্য বন্ধ, যাত্রী চলাচলে কী প্রভাব

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বৈধ পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে। ব্যবসায়ীদের জন্য পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও বন্দরে আগে থেকে থাকা আমদানি করা পণ্যের ওঠানো-নামানোর কাজ চালু রাখার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা।

সাত দিন, নাকি আট দিন বন্ধ?

বন্ধের সময়সীমা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশের (ইউএনবি) প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৭ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত সাত দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে। তবে ১৬ অক্টোবর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও এনটিভির প্রতিবেদনে ১৬ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত আট দিন বাণিজ্য বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়। সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর থেকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ হিসাবে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধের পর ২৪ অক্টোবর সকালে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার কথা। তবে প্রকাশের আগে বন্দর কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের কাছ থেকে কার্যকর সময়সীমা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

যাত্রী চলাচলে বাধা নেই

বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব রুহুল আমিন এ তথ্য জানিয়েছেন। অর্থাৎ, বৈধ পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় ভিসা থাকা যাত্রীদের জন্য পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধের কারণে সীমান্ত পারাপার বন্ধ হচ্ছে না।তবে যাত্রার আগে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা জেনে নেওয়া ভালো। বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকা এবং যাত্রী পারাপার চালু থাকা দুটি আলাদা বিষয়।

কেন বন্ধ থাকছে আমদানি-রপ্তানি

দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশে সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটি এবং ভারতের মহদীপুর স্থলবন্দর রপ্তানিকারক সমিতির ছুটির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই দেশের সীমান্তবর্তী বাণিজ্যিক কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে বন্ধ রাখা হচ্ছে। সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। ফলে কয়েক দিনের বিরতিতে পণ্য পরিবহন ও খালাসের স্বাভাবিক সূচি ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে যেসব ব্যবসায়ী দ্রুত পণ্য সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল, তাঁদের আগেই পরিবহন ও মজুতের পরিকল্পনা ঠিক করে নেওয়া প্রয়োজন।

বন্দরে থাকা পণ্যের কী হবে

বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বন্দরের ভেতরে আগে থেকে মজুত থাকা আমদানি করা পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিনিধি। ফলে বন্দরে থাকা সব পণ্যের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। তবে নতুন পণ্য আমদানি ও রপ্তানির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। ছুটি শেষে ২৪ অক্টোবর সকালে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় চালুর কথা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে বাণিজ্য শুরু হলে আটকে থাকা পণ্য পরিবহন ও সরবরাহের কাজ আবার স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

ব্যবসায়ীদের জন্য এখন প্রধান বিষয় হলো, বন্ধের সঠিক সময়সীমা নিশ্চিত করা, বন্দরে থাকা পণ্যের খালাসের ব্যবস্থা করা এবং ছুটি শেষে পরিবহন ও সরবরাহের সূচি পুনর্নির্ধারণ করা। অন্যদিকে, যাত্রীদের ক্ষেত্রে স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াত চালু থাকার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।