এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হলো না বাংলাদেশের। বৃহস্পতিবার নিসিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে বৃষ্টির কারণে ১৩ ওভারে নেমে আসা প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছে লিটন দাসের দল। 

টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাকিস্তান। শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। মাত্র ২১ রানের মধ্যে তানজিদ হাসান, লিটন দাস ও পারভেজ হোসেন ইমনকে হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। এরপর সাইফ হাসান ও তাওহিদ হৃদয় কিছুটা সামাল দিলেও ৪৫ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। 

তবে সেখান থেকে ম্যাচের গতি বদলাতে শুরু করেন তাওহিদ হৃদয়। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ২৫ বলে ৪২ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল দুটি চার ও চারটি ছক্কা। সাইফ হাসান ১৭ বলে ১৯ রান করেন, আর মোসাদ্দেক হোসেন করেন ১৬ বলে ১১ রান। 

পাকিস্তানের স্পিনার সুফিয়ান মোয়াকিম বাংলাদেশের রান বাড়ানোর পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান। তিনি ২৬ রানে ৩ উইকেট নেন। আরাফাত মিনহাস পান ২ উইকেট। শেষ পর্যন্ত ১৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। 

১১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানও শুরুতে স্বস্তিতে ছিল না। সাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, সাইম আইয়ুব ও উসমান খানকে হারিয়ে ৫৩ রানে ৪ উইকেটে পরিণত হয় দলটি। তখন বাংলাদেশের সামনে ম্যাচে ফেরার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছিল। 

কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। হাসান নওয়াজ ও আব্দুল সামাদ পঞ্চম উইকেটে ৫৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। সামাদ মাত্র ১৫ বলে অপরাজিত ৩০ রান করেন, আর নওয়াজ ২২ বলে ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন। 

বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমানের করা দশম ওভারে ২৩ রান তুলে পাকিস্তান ম্যাচের সমীকরণ অনেকটাই সহজ করে ফেলে। ওই ওভারে সামাদ পাঁচ বল খেলে ২২ রান করেন। এরপর ১১.৩ ওভারেই ১১২ রান তুলে নেয় পাকিস্তান। 

বাংলাদেশের হয়ে মাহেদী হাসান ও রিশাদ হোসেন একটি করে উইকেট নেন। রিশাদ ২.৩ ওভারে ১২ রান দিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে কম রান দেওয়া বোলার ছিলেন।

এই জয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের ফাইনালে উঠল পাকিস্তান। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ভারত। একই দিনে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ১২৪ রানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ভারত। 

বাংলাদেশের স্বর্ণপদকের পথ এখানেই শেষ হলেও টুর্নামেন্ট শেষ হয়নি। ৩ অক্টোবর ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে শ্রীলঙ্কা।