দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জে কারখানা বন্ধ ও উৎপাদন সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত দুই বছরে রাজনৈতিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন কারণে বেশ কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান কার্যক্রম বন্ধ বা সীমিত করেছে বলে সংশ্লিষ্ট খাতের তথ্য থেকে জানা গেছে।

নারায়ণগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার, টেক্সটাইল, ডাইং, প্রিন্টিংসহ বিভিন্ন শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এসব শিল্পে হাজার হাজার শ্রমিক সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।

শিল্প মালিকদের একটি অংশ বলছে, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তা, ব্যাংক ঋণের চাপ এবং বাজার পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা পরিচালনায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

কারখানা বন্ধের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শ্রমিকদের ওপর। অনেক শ্রমিকের আয় বন্ধ হওয়ায় তাদের পরিবারগুলোও আর্থিক চাপের মধ্যে পড়েছে বলে জানা গেছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, সহজ অর্থায়ন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ প্রয়োজন। এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শিল্প খাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

তৈরি পোশাক ও অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য নারায়ণগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখানকার পরিস্থিতি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে উৎপাদন ব্যবস্থায় পরিবর্তন, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নতুন বাজার খোঁজার চেষ্টা করছে।

শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখা এবং শিল্পখাতকে স্থিতিশীল করতে সরকারি উদ্যোগ, শিল্প মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা এবং উৎপাদনের গতি ফিরিয়ে আনার বিষয়টি এখন শিল্পখাতের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।