দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আরও ৯টি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) কার্গো কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটি। ২০২৬ সালের জ্বালানি চাহিদা পূরণে এসব LNG আমদানি করা হবে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৯টি কার্গোর মধ্যে পাঁচটি আন্তর্জাতিক quotation বা দরপ্রস্তাব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেনা হবে। বাকি চারটি কার্গো সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুমোদিত কার্গোগুলোর কয়েকটি আগামী অক্টোবর মাসেই দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এসব LNG জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, সিরামিক, ইস্পাত ও অন্যান্য গ্যাসনির্ভর শিল্পে কম চাপের গ্যাস সরবরাহের প্রভাব পড়েছে।
শিল্প উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে, জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে উৎপাদন ব্যয় এবং রপ্তানি কার্যক্রমেও চাপ তৈরি হচ্ছে।
সরকার এর আগে LNG সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে গ্যাস পরিস্থিতি উন্নত করার কথা জানিয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করা LNG পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।
দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন সীমিত হওয়ায় বর্তমানে আমদানিকৃত LNG জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে বৈশ্বিক বাজারে LNG-এর দাম, সরবরাহ সক্ষমতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর নির্ভরতার কারণে এই খাতে চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
এদিকে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পুরোনো গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে।
জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, LNG আমদানি সাময়িকভাবে গ্যাস সংকট কমাতে সহায়তা করবে। তবে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে স্থানীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
নতুন অনুমোদিত ৯টি LNG কার্গো দেশে পৌঁছানোর পর শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য খাতে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি কতটা উন্নত হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।




