দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া শিল্পকারখানায় সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। আজ সন্ধ্যা থেকে শিল্পাঞ্চলে আগের মতো গ্যাস সরবরাহ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শিল্পখাতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার বিষয়ে আশ্বাস দেন। বৈঠকে দেশের উৎপাদন, রপ্তানি এবং শিল্প খাতে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়।

শিল্প উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, গ্যাসের কম চাপ ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে অনেক কারখানায় উৎপাদন কমে গেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, সিরামিক, ইস্পাতসহ গ্যাসনির্ভর শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে।

ব্যবসায়ী নেতারা বৈঠকে জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে খরচ এবং সময়মতো রপ্তানি পণ্য সরবরাহ নিয়েও তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা। তারা শিল্পের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, LNG সরবরাহ বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতির উন্নতির মাধ্যমে সংকট কমানোর চেষ্টা চলছে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে শিল্পকারখানার উৎপাদনও ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কারখানাগুলো কম সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে বাধ্য হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সাময়িকভাবে সরবরাহ বাড়ানো গেলেও শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য স্থানীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন অনুসন্ধান এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

এদিকে শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, শুধু আশ্বাস নয়, মাঠপর্যায়ে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হওয়াটাই এখন মূল বিষয়। সরবরাহ বাড়লে কারখানার উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন তারা।

এখন শিল্প খাতের নজর থাকবে, আজ থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং উৎপাদন পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।