দীর্ঘ সময়ের গ্যাস সংকটের পর দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) সরবরাহ আবারও স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার রাতে দেশের দুটি ভাসমান LNG টার্মিনাল থেকে সরবরাহ ১ হাজার ১৫ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছেছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, LNG সরবরাহ বাড়ার ফলে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬২৪ মিলিয়ন ঘনফুটে। তবে জাতীয় পর্যায়ে গ্যাসের চাহিদার তুলনায় এখনো ঘাটতি রয়েছে।
দেড় মাসের বেশি সময় ধরে LNG সরবরাহ কম থাকায় শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে চাপ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে LNG সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগের ফলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, শুধু এক-দুই দিনের বাড়তি সরবরাহ নয়, উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজন ধারাবাহিক ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ।
জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের গ্যাস ব্যবস্থায় স্থানীয় উৎপাদন ও আমদানিকৃত LNG—দুই উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, সরবরাহ সক্ষমতা এবং টার্মিনালের কার্যক্রমের ওপর LNG সরবরাহ অনেকাংশে নির্ভরশীল।
গ্যাস সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কারখানাগুলো কম চাপের গ্যাস পাওয়ার সমস্যায় পড়েছিল। এতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়।
এখন LNG সরবরাহ বাড়ার পর শিল্পখাতে এর প্রভাব কত দ্রুত দেখা যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, সরবরাহের এই ধারা অব্যাহত থাকলে উৎপাদন কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে।
তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের চাহিদা পূরণে শুধু আমদানির ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধান, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
দেশের অর্থনীতি ও শিল্প উৎপাদনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ। তাই LNG সরবরাহ বৃদ্ধির এই অগ্রগতি কতটা স্থায়ী হয়, তা এখন পর্যবেক্ষণে রয়েছে।



